ছবি-ফেইসবুক থেকে নেওয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি জননেতা মুশফিকুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয়েছে অপপ্রচার। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই একটি অতিউৎসাহী মহল তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেখে একটি চক্র অস্বস্তিতে পড়ে নানা গুজব ও ভুয়া পোস্ট প্রচার করছে। এসব পোস্টে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিকৃত তথ্য এবং উদ্দেশ্যমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে সাধারণ নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, এটি মুশফিকুর রহমানের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকে খাটো করার কূটচাল ছাড়া কিছু নয়। তারা অভিযোগ করেন, দলীয় ঐক্য নষ্ট করতে একটি বাহ্যিক প্রভাবিত গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

কসবা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন:“জননেতা মুশফিকুর রহমান জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। তার প্রতি মানুষের আস্থা যত বাড়ছে, অপপ্রচারের মাত্রাও তত বাড়ছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, “একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে দলের ঐক্য নষ্ট করতে চায়। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, কসবা-আখাউড়ার জনগণ সচেতন। তারা এসব বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণায় কান দেবে না। দলকে সংগঠিত রাখাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

”জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল খন্দকার বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রার্থীর পক্ষে কাজ করাই একজন সত্যিকারের নেতাকর্মীর দায়িত্ব। যারা অপপ্রচারে লিপ্ত, তারা নিজেরাই জনগণের কাছে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকলে জয় অনিবার্য।”কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নেতা নাছির উদ্দিন হাজারি বলেন, “অপপ্রচার করে কোনো লাভ হবে না। জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা জানে, দলের মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।” ইঞ্জিনিয়ার মোসলে উদ্দিন বলেন, “যারা সামাজিক মাধ্যমে কাদা ছোড়াছুড়ি করছে, তারা প্রকৃত অর্থে দলের উপকার নয়, অপকারই করছে। এখন দরকার সবাই মিলে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা।”ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো বিভাজন বা অপপ্রচারই আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। বিএনপি সবসময় জনগণের দল—এটাই আমাদের পরিচয়।” “অপপ্রচার নয়, ঐক্যই হোক বিজয়ের হাতিয়ার।”

এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি কমিটির সদস্য হানিফর খন্দকার ও মুশফিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি এসব অপপ্রচারে নিরুৎসাহিত না হয়ে শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সকল নেতাকর্মীকে ধৈর্য ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ সকালে গুলশান বাসভবনে ধরখার ইউনিয়নে গ্রুপিংয়ের অবসান-মুশফিকুর রহমানের পক্ষে একমঞ্চে বিএনপি নেতারা। মতবিনিময় শেষে কসবা টিভির প্রশ্নের জবাবে মুশফিকুর রহমান বলেন: মিথ্যা অপপ্রচারে নয়, জনগণের ভালোবাসাই আমার শক্তি। কসবা-আখাউড়ার মানুষ সত্য জানে, তারা বিভ্রান্ত হবে না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এমন অপপ্রচার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও তা ক্ষতিকর।

অপর দিকে ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি ছবি নয় — দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান সচেতন মহলের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি ছবি ও মন্তব্য প্রকাশ করে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল বলছেন, এসব কর্মকাণ্ড নেতাদের নয় বরং দলের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তারা মনে করেন, রাজনৈতিক দলের শক্তি ঐক্যের মধ্যে। অথচ কিছু কর্মী ফেসবুকে হীন মানসিকতা থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে ছবি, ভিডিও ও কটুক্তিমূলক মন্তব্য প্রকাশ করছেন, যা শেষ পর্যন্ত দলের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সচেতন নাগরিক ও জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতারা কসবা টিভিকে বলেছেন, “এই কাদা ছোড়াছুড়ি পরিহার করে এখনই সবাইকে দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। না হলে প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ে নিজেদেরই ক্ষতি হবে, আর এর সুযোগ নেবে প্রতিপক্ষ।”

তারা আরও বলেন, নির্বাচনের সময় দলীয় ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই ব্যক্তিগত মনোমালিন্য বা প্রতিযোগিতাকে পেছনে ফেলে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত বিরোধ প্রকাশ করা কেবল বিভক্তির জন্ম দেয় না, বরং সাধারণ মানুষের চোখে দলের বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, নেতাকর্মীরা সচেতন হয়ে এই নেতিবাচক প্রচারণা বন্ধ করে ঐক্য ও শৃঙ্খলার রাজনীতি ফিরিয়ে আনবেন।

পরিশেষে বলা যায়, দল বাঁচলে তবেই নেতাকর্মীদের অবস্থান টিকে থাকবে। তাই ব্যক্তিগত ক্ষোভ-অভিমান ভুলে সবাইকে ঐক্যের পথে এগিয়ে আসতে হবে—এমনটাই প্রত্যাশা কসবা-আখাউড়ার সচেতন জনমহলের। নেতাকর্মীদের একটাই আহ্বান — অপপ্রচারের জবাব হোক ঐক্য ও ধানের শীষের বিজয়ের মাধ্যমে। ফেইসবুকে প্রচারিত একাংশের কিছু ছবি নিয়ে আজকের বিশেষ প্রতিবেদনটি।
পান্না রশীদ ঢালী,বিশেষ প্রতিনিধি,কসবা টিভি নিউজ ডেস্ক: