ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায় আবারও সফলতা পেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক এর কঠোর নির্দেশনা, কসবা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব এর নিবিড় তদারকি এবং কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল কাদের এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ গাঁজা।

রাত ১টা ৪৫ মিনিটে পুলিশের ঝটিকা অভিযান । ২৬ নভেম্বর ২০২৫, রাত ১টা ৪৫ মিনিট। চারদিকে নীরবতা, সড়কে যানবাহনের চলাচল কম। ঠিক সেই সময় এসআই (নিঃ) মোঃ ফারুক হোসেন এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করেন কসবা থানাধীন কুটি ইউনিয়নের কালামুড়িয়া এলাকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া–কুমিল্লা মহাসড়কের ওপর।

টহল কার্যক্রম চলাকালে পুলিশের সন্দেহ সৃষ্টি হলে অনুসন্ধান শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা উদ্ধার করেন ১২০ কেজি গাঁজা—যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।

এই উদ্ধার অভিযানকে কসবা থানা মাদকবিরোধী কার্যক্রমের বড় সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাদক চক্রের সক্রিয়তা রোধে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

অভিযানস্থল থেকেই পুলিশ গ্রেফতার করে এক ব্যক্তিকে। তার পরিচয়—নাম: মোঃ ফরিদ মিয়া (২৪),পিতা: মৃত শহিদুল্লাহ,মাতা: ফরিদা বেগম,ঠিকানা: একাতরী (মিজি বাড়ী), ২নং ওয়ার্ড, চিতোশী পশ্চিম ইউনিয়ন, শাহরাস্তি, চাঁদপুর।

এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র। মাদকবিরোধী প্রচেষ্টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ আরও কঠোর হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও যুবসমাজকে রক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ বর্তমানে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের নেতৃত্বে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা যেমন শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনি মাদকবিরোধী এই ধারাবাহিক অভিযানও জেলা পুলিশের অঙ্গীকারকে আরও স্পষ্ট করছে।

কসবা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল কাদের বলেন—“মাদক সমাজকে ধ্বংস করে। আমরা কঠোরভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। কসবাকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের নিয়মিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

জনমনে স্বস্তি ও পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি-এ সফল অভিযানের খবর কসবা ও আশপাশের এলাকাজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হলে এলাকায় মাদক চক্রের কার্যক্রম ভেঙে পড়বে এবং যুবসমাজ সঠিক পথে ফিরতে পারবে।

কসবা থানার সাম্প্রতিক এই মাদকবিরোধী অভিযান শুধু বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার নয়—এটি পুলিশের দৃঢ় মনোভাব, পেশাদারী দক্ষতা এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের প্রতীক। জেলাজুড়ে এমন ধারাবাহিক পদক্ষেপই মাদক নির্মূলে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সচেতন মহল।
ফারজানা রশীদ ঢালী কসবা টিভি নিউজ ডেস্ক: