ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে এগিয়ে মুশফিকুর রহমান, ভোট পেতে পারেন ৫৫ শতাংশ,ভোটের মাঠে দাড়িপাল্লার সাথে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে।

ডানে-মুশফিকুর রহমান ও বামে- মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকার
সত্যবাক,কসবা টিভি নিউজ ডেস্ক:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপির দলটির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমান এগিয়ে রয়েছেন বিভিন্ন একাধিক সূত্রটি জানান। তিনি প্রায় ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হতে পারেন বলে জনমত জরিপে ও জনমতে উঠে এসেছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকার পাবেন প্রায় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট জনমত জরিপে উঠে এসেছে। ।

দীর্ঘ ১২ দিন বিভিন্ন ভাবে বেসরকারি জরিপকারী বা:মা:কমিশনের বিভিন্ন ভাবে জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) কসবা উপজেলা প্রেসক্লাবে এক সভায় মাঠের এ জরিপের ফল প্রকাশ ও আলোচনা কালে মতামত উঠে এসেছে। এই জরিপ প্রকৃত পক্ষে সরকারি ভাবে গণনা না তবে সাধারণ মানুষের মতামতের ভিওিতে জরিপে প্রকাশ হয়েছে বা পেয়েছে।

আসন নম্বর ২৪৬,ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, কসবা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা আর আখাউড়ার ৫টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার -৪ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার প্রায় ৪লাখ ৩৪হাজার ৬০৯। ভোট কেন্দ্র-১৩০,ভোট কক্ষ- ৮৬৭,পুরুষ ভোটার-২২২১৭৬,মহিলা ভোটার ২১২৪২৭,তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৬।

আসনটিতে মোট প্রার্থী ৭ জন। তবে ভোটের মূল লড়াইয়ে দেখা যাচ্ছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীকে।জরিপের প্রকাশিত ফলাফলে উল্লেখ করা হয়, আসনটির ৫১৫ জন ভোটারের মতামত নিয়েছে সোচ্চার। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৬৯ এবং নারী ২৪৬ জন। ভোটারদের ২৩৯ জন, অর্থাৎ প্রায় ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ ধানের শীষের প্রার্থী মুশফিকুর রহমানকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকারকে প্রায় ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া অবশিষ্ট ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তারা কাকে ভোট দেবেন।

জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরুষ ও বৃদ্ধ ভোটাররা মুশফিকুর রহমানকে বেশি পছন্দ করেছেন। পুরুষ ভোটার এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মুশফিকুর রহমানকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। জরিপে তিনি নারীদের ভোট ২০ শতাংশ পাবেন ।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকার তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের ভোট পাবেন। তিনি নারী ভোটারদের ভোট ১০শত্যাংশ পাওয়ার সারা পাওয়া গেছে। অবশিষ্টরা কাকে ভোট দেবেন, তার সিদ্ধান্ত নেননি।

ভোট দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেও প্রকাশ করতে চাননি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার। দুই প্রার্থীর বাইরে অন্যদের ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ১ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার। শেষ কথা বিএনপির ভোট যেমন বাড়তে পারে তেমনি জামায়াতের ভোটও তেমন বাড়তে পারেন। সব শেষে হাড্ডাহাড্ডি ভোট লড়াইলে কম ভোটের ব্যবধানে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী বিজয় হবে বলে সচেতনমহল তাও জানান। এবারের নির্বাচনে মন খোলে ভোট দিবেন ভোটাররা বলে অনেকেই জানান। ইতিহাস ও স্থানীয় রাজনীতি সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে আশির দশকে ছিল জাতীয় পার্টির রমরমা অবস্থা। তবে নব্বইয়ের পর থেকে অদলবদল করে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের জোয়ার চলে আসছে। যখন যে দল ক্ষমতায় ছিল, তখন তাদের এমপি ছিল এখান থেকে। সর্বশেষ ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা আওয়ামী লীগের দখলে ছিল আসনটি।

এখন আওয়ামী লীগহীন মাঠে বিএনপি তা ফিরে পেতে মরিয়া। তবে তাতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে একসময়ে তাদেরই জোটসঙ্গী জামায়াত। ইদানীং( আজ ১০ থেকে ১২ দিন আগে) জামায়াত সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। সবার আগে ভোটের মাঠে নেমেছে তারা।একক প্রার্থী নিয়ে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও বাড়ি বাড়ি প্রচারণা চালিয়ে অনেকটা এগিয়ে গেছে দলটি। এছাড়া, তাদের প্রার্থী একজন সাবেক ছাত্রনেতা ও বয়সেও তরুণ। বিপরীতে বিএনপি একটি অংশ এ নিয়ে দলে রয়েছে বিভাজন। দলটি থেকে অপরজন মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় অন্যদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজমান। ওপর দিয়ে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে থাকলেও ভেতরে ভেতরে জামায়াতকে আশ্রয় দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রকাশ পেয়েছেন বলে একাধিক সূত্রটি জানান। কসবা সদরে কতিপয় নেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহারসহ প্রভাব দেখানোর ফলে বিজনার পূর্ব পাড়ের শান্তি প্রিয় মানুষ প্রভাবশালী শাহপুর গ্রামের কথা আজও জনগণ ভুলতে পারে না। তাই মানুষ ভোটের অনেক হিসেবে নিকাশ করছে এবং তাদের মতামত প্রকাশ করছেন না। অনেকেই নাম প্রকাশে না শর্তে জানান প্রকৃতপক্ষে এখানে দলীয় কোন্দলই কাল হবে। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধারণা যদি খারাপ কিছু হয়, দলীয় অধিকাংশ নেতাকর্মীর নীরবতার কারণেই হবে। অনেকের ধারণা, মুশফিকুর রহমান পাস করলে এখানে কবির বলয়ের ক্ষমতা হ্রাস পাবে বলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানা যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির মুশফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আতাউর রহমান সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জসিম, জাতীয় পার্টির জহিরুল হক খান, গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল হক চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রফিউদ্দিন ও এনপিপির শাহীন খান।

তবে এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আখাউড়া সদর, কর্ণেল বাজার,ইটনা,টনকি,মনিয়ন্দ,দেবগ্রাম,তারাগন,
রুটি, চান্দপুর, স্থানীয় গোপীনাথপুর, ধজনগর,জয়নগর,নোয়াপাড়া, আকাবপুর, বিনাউটি, তালতা, কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন,কুটি চৌমুহনী বাজার, লেশিয়ারা,আড়াইবাড়ি, বগাবাড়ি, নোয়াগাও, মাইজখার, পানিয়ারুপ, বিলঘর,অন্তপুর,মনকাশাইশর, হাজিপুর,তিনলাখপীর, খাড়েরা, দারগা বাড়ি, মনকাশাইর, সৈয়দাবাদ মোড়, তিনলাখ পীর, তন্তর ও ধরখার, মূলগ্রাম, বাহাদুরপুর, মান্দারপুর,জয়পুর ,শেরপুর, মেহারী, খাড়েরা, মাদলা,বায়েক,নয়নপুর,কায়েমপুর ইউনিয়ন,কুটি ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরেও তাদের প্রচারণা বেশি চোখে পড়েছে।

মাঝে মধ্যে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের কিছুটা উপস্থিতি নামে মাত্র টের পাওয়া গেছে। কসবা -কুটি,কসবা আখাউড়া,কসবা চারগাছের অটোরিকশার অধিকাংশ অটোচালকদের কাছে ভোট নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলে তারা হাসিমুখে উত্তর দেন, ‘ভাই হগলতেরে (সবাইকে) দেখছি। এইডা দেহনের বাকি। এইবার দাঁড়িপাল্লায় ভোটটা দিয়াম।’ তবে বিএনপির প্রার্থীকে দূর্বল ভাবাটা ভুল হবে কিন্ত বিএনপি মাঠে ময়দানে,গ্রামে ভোটারদের নজর কাড়তে অধিক সক্রিয় হতে বিএনপি পন্থি ভোটাররা মতামতা প্রকাশ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। কারণ পাস করার আশায় যদি বিএনপি বড় বড় কথা এবং মোটারাস্তা দিয়ে গা ভাসিয়ে চলে তা হলে ভোটের মাঠে দাড়িপাল্লার হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ে হিসেব নিকাশে গণেশ উল্টে কার ঘরে যায় বলা কঠিন হচ্ছে বলে অনেকেই জানান।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেখার বিষয় জনগণ কাকে বিজয় করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক

