সচ্ছ ভাবমূর্তি ও সৎ রাজনীতিই নির্বাচনে সাফল্যের চাবিকাঠি — সচেতন মহলের প্রত্যাশা

ছবি-সংগ্রহ
সত্যবাক,কসবা টিভি নিউজ ডেস্ক।
আসন্ন উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানামুখী প্রস্তুতি। প্রার্থীরা জনসংযোগ,ফেইসবুকে প্রচার প্রচারণী, উঠান বৈঠক ও কর্মিসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা—এবারের নির্বাচনে যেন প্রাধান্য পায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবামূলক রাজনীতি; বিতর্ক নয়, উন্নয়ন হোক মূল আলোচ্য বিষয়।

স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনে জমি দখল, চোরাচালান, মানুষ হয়রানি, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা ও পেশিশক্তির প্রভাব ,কথায় কথায় দলের হুমকি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এবার ভোটাররা অতীতের সেই নেতিবাচক চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে চান।

সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, যে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে যত দূরে থাকবে, ভোটের মাঠে তার গ্রহণযোগ্যতা তত বেশি হবে। তারা মনে করেন, বর্তমান সময়ে ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমের প্রসারের কারণে কোনো অনিয়ম সহজে গোপন থাকে না। ফলে নেতিবাচক ভাবমূর্তি নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া আগের চেয়ে কঠিন।

একাধিক ভোটার জানান, তারা এমন প্রতিনিধিকে বেছে নিতে চান যিনি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারবেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত সততা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিতে চান।

স্থানীয় সুশীল সমাজের অভিমত, নির্বাচনে সহিংসতা বা পেশিশক্তির প্রদর্শন সাময়িক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে তা রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়। বরং গণতান্ত্রিক আচরণ, প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীলতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাবই একজন প্রার্থীর প্রকৃত যোগ্যতার পরিচয় বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের নির্বাচন সরাসরি জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এখানে সৎ, দক্ষ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে অতীত রেকর্ড, সামাজিক ভাবমূর্তি ও জনসম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

সব মিলিয়ে সচেতন মহলের আবেদন—ভোটের রাজনীতিতে হোক ইতিবাচক প্রতিযোগিতা। জমি দখল, চোরাচালান, চাঁদাবাজি কিংবা পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিদের ব্যতি রেখে সৎ ব্যক্তিদের মনোয়ন দিলে ব্যক্তি প্রভাবমুক্ত একটি নির্বাচনই পারে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে। আর অসৎ ব্যক্তি, দখলবাজ, লাঠিবাজ লোককে মানুষ প্রকাশ্য ভয়ে কিছু বলে না তবে ভোটের মাধ্যমে জবাব দিতে ভুল করে না। তাই জনগণের আস্থা অর্জনই হোক প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক

