ছবি ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত।
খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনার ছবি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ছবিতে দেখা যায়, এক যুবক সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে তারকাঁটার নিকটে দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করছেন এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী Border Security Force (BSF) সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এমন আচরণ শুধু ব্যক্তিগত ঝুঁকিই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সংবেদনশীল প্রভাব ফেলতে পারে।

সীমান্ত আইন ও আন্তর্জাতিক বিধান- বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও চিহ্নিত। সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে অন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করা আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্ত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নোম্যান্সল্যান্ড বা সীমান্তবর্তী এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল—এখানে অনুমতি ছাড়া অবস্থান, ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তর্কে জড়ানো পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী Border Security Force (BSF) তাদের নিজস্ব আইন ও নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী সীমান্ত সুরক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত। একইভাবে বাংলাদেশের পক্ষেও সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সক্রিয় থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে সামান্য উসকানিমূলক আচরণও বড় ধরনের কূটনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা: ঝুঁকি কতটা?
বর্তমান সময়ে টিকটক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনেক তরুণকে ঝুঁকিপূর্ণ ও দায়িত্বহীন পদক্ষেপ নিতে প্রলুব্ধ করছে। সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় ভিডিও ধারণ, উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিতর্কে জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্তে প্রবেশের আগে সাইন বোর্ড দেওয়া আছে প্রবেশ নিষেধ।কিন্ত প্রবেশ নিষেধ অতিক্রম করে কি ভাবে তরুণ প্রবেশ করে সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় ভিডিও ধারণ, উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিতর্কে জড়ানো হয়েছে। এখানে সীমান্ত এলাকায় ডিউটিরত সীমান্ত সদস্যদের কি ভাবে ফাঁকি দিয়ে এই কাজটি করেছেন এখন প্রশ্ন আসতে পারে।

এতে—ব্যক্তিগত গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ বা আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে পারে ও দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে। মস্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।নাগরিক দায়িত্ব ও করণীয়-সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব—আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও স্থানীয় প্রশাসনিক নির্দেশনা মেনে চলা । সীমান্ত পিলার বা নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় অপ্রয়োজনীয় অবস্থান না করা
সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি থেকে বিরত থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংযত ও সম্মানজনক আচরণ করা।

পরিশেষে বলতে চাই সীমান্ত কেবল ভৌগোলিক বিভাজন নয়; এটি দুই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তার প্রতীক। সাময়িক ভাইরাল হওয়ার লোভে এমন সংবেদনশীল স্থানে আইন অমান্য করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সংযম, সচেতনতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাই হতে পারে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের প্রকৃত পরিচয়।
লেখক:সভাপতি, কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব ও সম্পাদক, কসবা টিভি।