গডফাদাররা আড়ালে, ধরা পড়ে বাহক: কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক ঐক্যেই কসবা -আখাউড়ায় মাদক কমানো সম্ভব

খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী :
কসবা-আখাউড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায়ই দেখা যায়—বহনকারী বা খুচরা সহযোগীরা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থেকে যায় আড়ালে। স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে দাবি করছি যে—“গডফাদারদের কি ভাবে চাকরি নেই,বৈধ ব্যবসা নেই,কি ভাবে টাকা সম্পদের মালিক হয়েছেন,তাদের বাড়িতে বিল্ডিং হয়েছে,দামী গাড়ি চড়ে। তাদের বিরুদ্ধে এই সম্পদের হিসাব নিয়ে মানি লন্ডারিং মামলা এবং বহনকারীদের কমপক্ষে ছয় মাস কারাবাস নিশ্চিত করা গেলে ছয় মাসেই কসবায় মাদক ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।”

আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি-বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রযোজ্য আইন হলো Narcotics Control Act, 2018। এ আইনে মাদক উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রির জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে Money Laundering Prevention Act, 2012 গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইনজীবীদের মতে, যদি মাদক ব্যবসার মূল অর্থের উৎস ও সম্পদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সহজ হবে। কেবল বাহক গ্রেপ্তার নয়—অর্থের প্রবাহ বন্ধ করাই হবে টেকসই সমাধান।

প্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয়তার প্রশ্ন?
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ—মাঠপর্যায়ে অভিযানে তৎপরতা থাকলেও প্রভাবশালী গডফাদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা কম। এ প্রসঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–এর সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযানের দাবি উঠেছে।উল্লেখ্য থাকে যে সীমান্ত পীলার অতিক্রম করে দেশে প্রবেশ করে কিভাবে।প্রবেশ করেই নিদিষ্ট সোর্সদের মাধ্যমে একাধিক পথ বদল করে মাদক ও চোরাচালানি দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবেশ করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্পদ যাচাই, ব্যাংকিং লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত বিচার—সব মিলিয়ে সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন।
ছয় মাসে ৭৫% হ্রাস—কতটা বাস্তবসম্মত? আপনি প্রতি মাসে মাদক কারবারিদের তালিকা নিবেন কিন্ত মাঠ পর্যায়ে কাজের হিসেব নিবেন না। তা কেমন করে হয়।আর গভীর রাতে কারা রাস্তায় থাকে, গভীর রাতে দামী গাড়ি নিয়ে মাঝ পথে পাহারা দেয় তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিন। আর এক কেজি গাঁজাসহ কাউকে গ্রেফতার করলে কেউ ফোন বা সুপারিশ করবে না ।তার নিশ্চিত হলে মাদক পাচার বন্ধ কেন হবে না। এক কথা নিজেকে নয় আগে দেশটাকে ভালোবাসতে হবে।

আমার বক্তব্য অনুযায়ী,“গডফাদারদের সম্পদের হিসাব নিয়ে মামলা এবং বাহকদের অন্তত ছয় মাস জেলে রাখার ব্যবস্থা হলে কসবা -আখাউড়ায় ছয় মাসেই ৭৫ ভাগ মাদক কমবে—এটা আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি।”
অপরদিকে রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ, মিডিয়া ও সচেতন জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে ‘মাদককে না’ বলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলে, তাহলে বাকি ২৫ শতাংশও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

আমি বাস্তবভিওিক কথা বলতে চাই কসবা থেকে ১০০শত ,আখাউড়া থেকে ১০০শত মাদক পাচার ও গর্ডফাদারদেরকে গ্রেফতার করে ৬মাসের জেলে থাকার ব্যবস্থা করুন তা হলে মাদক কমে যাবে।আমি সহজ একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরতে চাই, একজন মাদক পাচারকারীকে এক কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে। এই এক কেজি গাঁজা ৫০০শত লোক সেবন করবে।একজন পাচারকারী এক কেজি গাঁজা দিয়ে কতজনকে মাদকাক্ত করেছেন ।এখন ভাবুন শত শত কেজি গাঁজা দেশের কত হাজার পরিবারের সদস্যকে মেধা শূন্য করছেন।তাই মাদক পাচারকারী বা বহনকারীকে কমপক্ষে ৬মাস জেলে আটকের সুব্যবস্থা করলে দিন । তাহলে মাদক সেবন হ্রাস পাবে তাতে করে মাদক প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস। অপর দিকে দুই থানার পুলিশের বড় কর্তার সাথে সহযোগি পুলিশ আবার বড় কর্তাও পুলিশের সাথে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে একাধিক সূত্রটি জানান।আপনি প্রতি মাসে জেলা পুলিশ সুপারের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ অফিসার হয়েছেন কিন্ত মাঠ পযায়ে আপনার কাজের গতি নেই এই ভাবে শ্রেষ্ঠ হওয়া সম্ভব কিন্ত মাদক ও অপরাধ সমাজ থেকে দূর করা সম্ভব নয়। তাই সকলকে দায়িত্বর প্রতি আন্তরিক হতে হবে।

সামাজিক প্রতিরোধই চূড়ান্ত শক্তি,মাদকবিরোধী লড়াই -এটি সামাজিক আন্দোলনও বটে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা, পরিবারে নজরদারি, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় মিডিয়ার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—সব মিলিয়ে তৈরি হতে পারে শক্তিশালী প্রতিরোধ।

কসবা-আখাউড়ায় মাদক নিয়ন্ত্রণে টেকসই সাফল্য পেতে হলে প্রয়োজন—আইনের কঠোর প্রয়োগ, গডফাদারদের আর্থিক জবাবদিহিতা, সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নজরদারি জোরদার এবং সর্বস্তরের সামাজিক ঐক্য। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা সময়ই বলবে; তবে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
লেখক:সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব,সম্পাদক কসবা টিভি ও অপরাধ পত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক

