ছবি-সংগৃহীত….
: খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী:
প্রিয় পাঠক আজকে অন্য একটি বিষয় নিয়ে হাজির হয়েছি। যুদ্ধ বিষয়ে আমরা জানি ও দেখছি কিন্ত এর পরও আজকের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক শক্তির চাপ—সবকিছুর মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান নিজেদের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী দশ বছরে দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তি ও শিল্পায়নের উপর ভর করে বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করবে।

স্বনির্ভর প্রযুক্তির দিকে ঝোঁক-দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ইরানকে এক অর্থে বাধ্য করেছে আত্মনির্ভর হতে। তেল-গ্যাস খাতের পাশাপাশি দেশটি এখন তথ্যপ্রযুক্তি, ন্যানোটেকনোলজি, চিকিৎসা প্রযুক্তি, কৃষি উদ্ভাবন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। স্থানীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমও ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছে।

বিশেষ করে ইরানের ন্যানোটেকনোলজি ও বায়োটেকনোলজি খাত ইতোমধ্যে আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশ করেছে। দেশীয় উৎপাদিত ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও শিল্পপণ্য মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকার কিছু দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

জ্বালানি সম্পদ: অর্থনীতির প্রধান ভরকেন্দ্র-বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে ইরানে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পরিবর্তিত বাস্তবতায়, বিশেষ করে এশীয় বাজারে, ইরান ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করে বিকল্প বাজার তৈরির চেষ্টা চলছে।

নতুন বাজার ও কৌশলগত জোট-পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ইরান এখন আঞ্চলিক ও পূর্বমুখী বাণিজ্য কৌশল গ্রহণ করেছে। মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ দৃশ্যমান। বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটে সম্পৃক্ততা ইরানের কৌশলের অংশ।
চ্যালেঞ্জও কম নয়-তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক বিনিয়োগের ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও বেকারত্ব—এসব সমস্যা ইরানের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রযুক্তি উন্নয়নে অগ্রগতি হলেও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ?
যদি ইরান সফলভাবে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এগোতে পারে, তবে আগামী দশকে দেশটি একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, “নিষেধাজ্ঞা ইরানকে থামাতে পারেনি, বরং বিকল্প পথ খুঁজতে শিখিয়েছে।” এখন দেখার বিষয়—নিজস্ব প্রযুক্তি ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ইরান কতটা টেকসই ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি কেবল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবেই থাকবে, নাকি বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
লেখক:সবাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব, সম্পাদক-কসবা টিভি ও অপরাধ পত্র।