কসবা-আখাউড়ায় অবৈধ মাটি কাটার ড্রেজার ও পাইপ নষ্ট নয়, নিলামে বিক্রির দাবি সচেতন মহলের

ছবি-সংগৃহীত–
: খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা-আখাউড়া উপজেলা জুড়ে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ নতুন নয়। প্রশাসনের অভিযানে প্রায়ই ড্রেজার মেশিন ও পাইপ জব্দ করা হলেও, সেগুলো অনেক সময় অকেজো করে ফেলা বা নষ্ট করার নজির রয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—জব্দকৃত ড্রেজার ও পাইপ নষ্ট না করে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করা হোক এবং সেই অর্থ সরাসরি সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হোক।

স্থানীয়দের মতে, অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে কৃষিজমি, খাল-বিল ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রশাসনের কঠোর অভিযান অবশ্যই প্রয়োজন, তবে জব্দকৃত যন্ত্রপাতি ধ্বংস না করে সেগুলোকে রাষ্ট্রীয় সম্পদে রূপান্তর করার সুযোগ রয়েছে। এতে একদিকে যেমন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সরকারও রাজস্ব আয় করতে পারবে।

একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, “ড্রেজার মেশিন ভেঙে ফেলা মানে কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করা। এগুলো নিলামে বিক্রি করলে সরকার উপকৃত হবে, সেই অর্থ দিয়ে নদী-খাল পুনঃখনন বা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।”

আইনজ্ঞদের অভিমত, ভ্রাম্যমাণ আদালত বা প্রশাসনিক অভিযানে জব্দকৃত মালামাল সংরক্ষণ ও নিলাম সংক্রান্ত স্পষ্ট বিধান রয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিলাম সম্পন্ন করলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে কোনো ধরনের অপচয় বা বিতর্কের সুযোগ থাকবে না।

পরিবেশকর্মীরা মনে করেন, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জরুরি। পাশাপাশি, জব্দকৃত সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় সুসংহত নীতিমালা অনুসরণ করলে একদিকে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সরকারি রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।

সচেতন মহল বলছে, কসবা – আখাউড়া আশপাশের এলাকায় অবৈধ মাটি কাটা রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি জব্দকৃত ড্রেজার ও পাইপ নিলামে বিক্রির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগার সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান স্যার ও প্রশাসন এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে তা হবে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সমন্বিত।
লেখক: সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব, সম্পাদক,কসবা টিভি ও অপরাধ পত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক

