: খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী:
আমি আমার ৪৫ বছর পেশাগত কাজে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে দেখা এবং বুদ্ধিজীবিদের কাছ থেকে কিছু জানার কছিুটা সুভাগ্য হয়েছে । তাই বলে আমি মহাজ্ঞানি বা পন্ডিত নয়।যত গুলো প্রতিবেদন প্রচার করছি বা প্রচার হবে তা সব বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দুই কলম লেখার চেষ্টা মাত্র। আপনি লেখার পক্ষে বা বিপক্ষে থাকার অথিকার আছে ছিল থাববে। আমার লেখা ভুল হলে আমাকে পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ রাখার অথিকার আছে।

কসবা ও আখাউড়া সীমান্তবর্তী জনপদে মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা অভিযান নয়—টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি আধুনিক ও মানসম্মত মাদক নিরাময় চিকিৎসা কেন্দ্র। এ লক্ষ্যেই কসবা-আখাউড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি কেবল আইনগত সমস্যা নয়; এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই প্রস্তাবিত কেন্দ্রে ডিটক্সিফিকেশন ইউনিট, মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, কাউন্সেলিং সেবা, গ্রুপ থেরাপি এবং পরিবারভিত্তিক পুনর্বাসন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সহায়তা যুক্ত থাকলে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের সমাজে পুনঃএকীভূত হওয়া সহজ হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, কসবা-আখাউড়ায় একটি মানসম্মত কেন্দ্র গড়ে উঠলে সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলের তরুণ সমাজ নতুন আশা পাবে। এতে করে পরিবারগুলোও সহজে চিকিৎসা সেবা পাবে এবং বাইরে দূরবর্তী জেলায় যেতে হবে না।

প্রস্তাবিত কেন্দ্রের জন্য উপজেলা সদরের নিকট উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ এবং ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান যেমন চলবে, তেমনি পুনর্বাসনকেন্দ্র স্থাপন হলে তা হবে মানবিক ও টেকসই সমাধানের বড় পদক্ষেপ। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক সমাজ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একযোগে কাজ করলে কসবা-আখাউড়াকে ধীরে ধীরে মাদকমুক্ত জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব।
সময়ের দাবি—শাস্তির পাশাপাশি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। কসবা-আখাউড়ায় আলোর পথে একটি আধুনিক মাদক নিরাময় চিকিৎসা কেন্দ্র সেই প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

স্থাপনের উদ্যোগ যদি মাননীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান স্যার এই প্রকল্পটি হাতে নেন তা হলে উপযুক্ত স্থান ও অবকাঠামো বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই।
নিরিবিলি ও নিরাপদ পরিবেশ। পৃথক পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড (যদি আবাসিক হয়)।চিকিৎসা কক্ষ, কাউন্সেলিং রুম, গ্রুপ থেরাপি রুম।বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, সিসিটিভি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জরুরি চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালের সংযোগ।** দক্ষ জনবল
রেজিস্টার্ড চিকিৎসক (বিশেষ করে সাইকিয়াট্রিস্ট বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ)।
প্রশিক্ষিত নার্স ও প্যারামেডিক।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলর।সোশ্যাল ওয়ার্কার ও কেয়ারগিভার।
নিরাপত্তাকর্মী ও প্রশাসনিক স্টাফ।
** চিকিৎসা ও থেরাপি প্রোগ্রাম
মেডিকেল ডিটক্সিফিকেশন (ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে)।
ব্যক্তিগত ও গ্রুপ কাউন্সেলিং।
বিহেভিয়ারাল থেরাপি ও রিল্যাপ্স প্রতিরোধ প্রশিক্ষণ।
পরিবারভিত্তিক কাউন্সেলিং সেশন।
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষামূলক কার্যক্রম (ঐচ্ছিক)।
** পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ
কারিগরি প্রশিক্ষণ (হস্তশিল্প, আইটি, কৃষি ইত্যাদি)।
আত্মনির্ভরশীলতা তৈরির পরিকল্পনা।
সমাজে পুনঃএকীভূতকরণ (Reintegration) প্রোগ্রাম।
** নীতিমালা ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ
রোগীর সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষা।
শারীরিক নির্যাতন বা জোরপূর্বক আটকের বিরুদ্ধে কঠোর নীতিমালা।
নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং কমিটি।
** আর্থিক পরিকল্পনা
প্রাথমিক বিনিয়োগ (ভবন, সরঞ্জাম, বেড, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি)।
মাসিক পরিচালন ব্যয় (বেতন, ওষুধ, খাবার, ইউটিলিটি)।
দাতা সংস্থা, কর্পোরেট CSR বা সামাজিক তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ।

আমার গঠনমূলক মতামত-
মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু ব্যবসা নয়—এটি একটি মানবিক দায়িত্ব। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, লাইসেন্স ছাড়া বা অপ্রশিক্ষিত কর্মী দিয়ে কেন্দ্র চালানো হয়, যা রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আইন মেনে, দক্ষ জনবল দিয়ে, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।

যদি সঠিক চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা যায়—তবে অনেক তরুণ নতুন জীবন ফিরে পাবে। সমাজ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগেই একটি কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব।
লেখক: সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব,সম্পাদক ,কসবা টিভি ও অপরাধ পত্র।