কসবা উপজেলা সীমান্তে মাদকবিরোধী লড়াই পুলিশ টহলে মাঠে, গডফাদারদের বাড়িতে অক্ষত সিসি ক্যামেরার নজরদারি!

: খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা সীমান্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার। এই সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দিন-রাত টহল দিচ্ছেন, ঠিক তখনই অভিযোগ উঠেছে—শীর্ষ মাদককারবারিদের কয়েকটি বাড়িতে বসানো অসংখ্য সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করে নজরদারি করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধির ওপর। স্থানীয়দের দাবি, তালিকাভুক্ত একাধিক প্রভাবশালী মাদক গডফাদারের ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িতে একাধিক সিসি ক্যামেরা এখনো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।



কসবায় মাদক পাচারকারীদের বাড়িতে সিসি ক্যামেরা-ছবি সংগৃহীত——-
সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, চোরাকারবারিরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করেছে। বাড়ির চারপাশ, গলি, রাস্তা—সবখানেই ক্যামেরা বসিয়ে তারা আগাম খবর পেয়ে যায় অভিযানের। ফলে অভিযানে গিয়ে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত আসামি বা মাদকদ্রব্য পাওয়া যায় না।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পুলিশ রাস্তায় টহল দেয়, আর ওরা ক্যামেরা দিয়ে পাহারা দেয়। আবার তাদের নিয়োগকৃত সোর্স রাস্তায় থাকে মোবাইল হাতে নিয়ে প্রশাসনের গাড়ি ঢুকলেই খবর চলে যায়।” তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এতগুলো ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও এগুলো অপসারণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। সব চেয়ে মজার বিষয় রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা মাদকের গড ফার্দারদের সাথে সংবাদ আদান প্রদানে প্রত্যক্ষ ও প্ররোক্ষ ভাবে জড়িত বলে একাধিক সূত্রটি জানান।

তবে পুলিশ বলছে, মাদকবিরোধী অভিযানে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। নিয়মিত গ্রেপ্তার ও মামলা হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ দমনে পাল্টা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। কসবা খানা অফিসার ইনচার্জ নাজননি সুলতানা এই কর্মকর্তা বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক দমনে শুধু অভিযান নয়, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একইসঙ্গে অবৈধভাবে স্থাপিত নজরদারি ক্যামেরা থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন—যেখানে পুলিশ মাদক পাচারকারী ধরতে নিরলস ডিউটি করছে, সেখানে গডফাদারদের শক্ত ঘাঁটি ও নজরদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ কবে নেওয়া হবে?

মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ কসবা গড়তে হলে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি,মিডিয়া ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে একমাত্র কার্যকর পথ।
লেখক: সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব, সম্পাদক ,কসবা টিভি ও অপরাধ পত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক

