প্রচারবিমুখ রাজনীতির দুই মুখ—কসবা বিএনপির প্রবীণ নেতা আব্দুল হাই স্যার ও জহিরুল হক বিএ

: খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী :
প্রিয় পাঠক ৭০ দশকের কথা আজও মনে পড়ে। কাছের লোকদেরকে এখন আগের কসবা সদরে বিচারণ করতে প্রতিনিয়ত দেখ যাচ্ছে না ,বয়সের কারণে আবার অনেককে হারিয়ে গেছে না ফেরার দেশে।তবে তাদের কথা আজও মনে পড়ে। আজকে দুইজন ব্যক্তিকে নিয়ে আমার লেখা।

ছবি-পুরানো এ্যাম্বম থেকে-
কালের পরিবর্তনে রাজনীতির ধরণ বদলেছে অনেক। এক সময় রাজনীতিতে ছিল আদর্শ, ত্যাগ ও নীরব শ্রমের মূল্যায়ন। কিন্তু বর্তমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে প্রচার-প্রচারণাই যেন হয়ে উঠেছে রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার। এই পরিবর্তনের ভিড়ে কসবার রাজনীতির দুই প্রবীণ মুখ—আব্দুল হাই স্যার ও জহিরুল হক বিএ—আজ অনেকটাই স্মৃতির আড়ালে চলে গেছেন।

কসবা উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এই দুই নেতা। দলীয় দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকা, সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং নীরবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়াই ছিল তাদের পরিচয়। তারা প্রচারের আলোয় নয়, বরং কাজের মাধ্যমে মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয়দের কাছে আব্দুল হাই স্যার ছিলেন একজন সজ্জন, ভদ্র ও আদর্শবান রাজনীতিক। শিক্ষকতার পেশার পাশাপাশি তিনি রাজনীতিকে দেখতেন সমাজসেবার একটি মাধ্যম হিসেবে। দলীয় কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতে তিনি সবসময় সচেষ্ট ছিলেন।

অন্যদিকে জহিরুল হক বিএ ছিলেন সংগঠক হিসেবে পরিচিত। দলের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি নীরবে কাজ করতেন। মিটিং-মিছিল, সংগঠন গড়ে তোলা কিংবা কর্মীদের পাশে থাকা—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য একজন মানুষ। কিন্তু নিজের কাজের প্রচার তিনি কখনোই পছন্দ করতেন না।
বর্তমানে রাজনীতিতে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বেড়েছে ব্যাপকভাবে। অনেকেই নিজেদের কার্যক্রম প্রচারের মাধ্যমে পরিচিতি তৈরি করছেন। ফলে যারা প্রচারবিমুখ ছিলেন, তাদের অবদান অনেক সময় নতুন প্রজন্মের কাছে অজানাই থেকে যাচ্ছে।

কসবার সচেতন মহলের মতে, রাজনীতির ইতিহাস লিখতে গেলে এমন নীরব কর্মীদের অবদান স্মরণ করা জরুরি। কারণ সংগঠন টিকিয়ে রাখতে শুধু আলোচিত নেতারাই নন, বরং পর্দার আড়ালে থাকা অসংখ্য ত্যাগী মানুষের ভূমিকা থাকে।

আব্দুল হাই স্যার ও জহিরুল হক বিএ সেই ধরনেরই দুই নেতা, যারা প্রচারের বাইরে থেকেও কসবার রাজনীতিতে নিজেদের অবদান রেখে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে হয়তো তাদের নাম খুব বেশি উচ্চারিত হয় না, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এবং প্রবীণদের স্মৃতিতে তারা এখনও সম্মানের সাথে তাদের নীরব অবদান কসবার রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ।
লেখক: সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব, সম্পাদক,কসবা টিভি ও অপরাধ পত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক

