কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের তীনলাখপীর: নতুন শিল্পাঞ্চল ও মডেল ইপিজেডের সম্ভাবনা

ফারজানা রশীদ ঢালী,কসবা টিভি ডেস্ক:
প্রিয় পাঠক আমাকে আমার বাবা পাক্ষিক অপরাধ পত্র পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী একটি চিঠি ধরিয়ে আজ দু্ইদিন ধরে বলছেন একটি ফিচার নিউজ লিখতে। জানিনা কতটুকু আপনাদের কাছে তুলে ধরতে পেরেছি। তবে অবস্থান, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সম্ভাবনায় এগিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার তীনলাখপীর এলাকাটি অপ্রিয় হলেও সত্য। কুমিল্লা সিলেট ই মহাসড়কের পাশে তিনটি স্থান রয়েছে প্রথমটি তীনলাখপীর,কুটি চৌমুহনী ও কাঠেরপুল।

প্রতিকী ছবি
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও রপ্তানিমুখী কাঠামোয় রূপান্তর করতে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সেই প্রেক্ষাপটে কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের পাশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তীনলাখপীর এলাকা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভৌগোলিক অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যমান অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে এই অঞ্চলটি একটি আধুনিক শিল্পাঞ্চল বা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কৌশলগত অবস্থান: তিন করিডোরের সংযোগস্থল:
তীনলাখপীর এলাকার সবচেয়ে বড় শক্তি এর ভৌগোলিক অবস্থান। এটি দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত পণ্য পরিবহন সম্ভব। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে আনুমানিক সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা, ঢাকা থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা এবং সিলেট থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার দূরত্ব এই এলাকাকে শিল্প স্থাপনের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক করে তুলেছে।

সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা সঙ্গে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে সংযোগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় সুবিধা সৃষ্টি করছে। বলে রাখি ভৌগোলিক সুবিধা:
কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তীনলাখপীর এলাকা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অনন্য সুবিধা প্রদান করছে।
ঢাকা: ৩–৩.৫ ঘণ্টা
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর: ৩.৫–৪ ঘণ্টা
সিলেট: প্রায় ৩ ঘণ্টা
ভারতের আগরতলা: মাত্র ১ ঘণ্টার সড়ক দূরত্ব
এই অবস্থান তিনটি প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে একত্রিত করে এবং আন্তর্জাতিক রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।


ছবি-সংগৃহীত

জমি ও স্থানীয় সহযোগিতা: শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ:
এলাকাজুড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ খালি জমি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ সরকারি খাস জমি। স্থানীয় জনগণ শিল্পায়নের জন্য ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করছে, যা জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।

অবকাঠামোগত শক্তি: শিল্পের জন্য প্রস্তুত ভিত্তি
তীনলাখপীর এলাকায় বিদ্যমান অবকাঠামো শিল্পকারখানার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। আশুগঞ্জ নদী বন্দর, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তিতাস ও কসবার গ্যাসক্ষেত্র—সবই শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি, যোগাযোগ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে। আরেকটু বলি

অবকাঠামো ও জ্বালানি সুবিধা
আশুগঞ্জ নদী বন্দর: আমদানি–রপ্তানির দ্রুত রুট
আখাউড়া রেলওয়ে জংশন: অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রেল সংযোগ
আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র: শিল্প স্থাপনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ
তিতাস, সালদা, কাশীরামপুর ও তারাপুর গ্যাসক্ষেত্র: দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা
এই সমন্বয় শিল্প স্থাপনের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা

বিনিয়োগ সম্ভাবনা: আন্তর্জাতিক আগ্রহ:
কম খরচে জমি, উন্নত যোগাযোগ, বন্দর–রেল সংযোগ এবং সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর আগ্রহ ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করছে।

কর্মসংস্থান ও সামাজিক প্রভাব:
শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে স্থানীয় বেকার যুবক ও যুবতিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এটি শুধু অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নয়, বরং যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার সম্ভাবনাও তৈরি করবে।
স্থানীয় মতামতঃ

ছবি সংগৃহীত
কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপন কসবা টিভিকে বলেন, “তীনলাখপীর এলাকা বাণিজ্যিক দিক থেকে সময়ের উপযোগী। এখানে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা গেলে পুরো অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।”

সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের তীনলাখপীর এলাকা সহজেই বাংলাদেশের সর্বাধুনিক মডেল ইপিজেডে পরিণত হতে পারে। এটি কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করবে না, বরং বেকার যুবক ও যুবতিদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও রপ্তানি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক

