সময়ই সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ—নীরব বিচার, গভীর শিক্ষা

সত্যবাক:
প্রিয় পাঠক, জীবনের প্রতিটি বাঁকে আমরা কখনও না কখনও অন্যায়, অবহেলা কিংবা কষ্টের মুখোমুখি হই। তখন মনে হয়—কেন এমন হলো? কেন কেউ অন্যায় করে পার পেয়ে যায়? হৃদয়ের ভেতরে জমে ওঠে অভিমান, ক্ষোভ, কখনও প্রতিশোধের আগুনও জ্বলে ওঠে। কিন্তু একটু থেমে ভেবে দেখুন—সব কিছুর উত্তর কি আমাদের হাতেই থাকা দরকার? নাকি সময়ের কাছে ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা? আজকের এই ফিচার সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার এক আন্তরিক প্রয়াস বলে আমি মনে করি।

“সময়ই সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ”—এই কথাটি শুধু সান্ত্বনার বাক্য নয়, এটি জীবনের এক গভীর সত্য। আমরা অনেক সময় তাৎক্ষণিক ফলাফল দেখে হতাশ হয়ে পড়ি। মনে হয়, অন্যায়কারীরা জয়ী, আর সৎ মানুষরা হারছে। কিন্তু বাস্তবতা এত সরল নয়। সময় ধীরে ধীরে তার হিসাব মিলিয়ে নেয়—নীরবে, নিঃশব্দে, কিন্তু নির্ভুলভাবে।

মানুষের কর্ম কখনও হারিয়ে যায় না। ভালো কাজ যেমন একসময় সম্মান ও শান্তি এনে দেয়, তেমনি অন্যায় কাজও একসময় তার ফল নিয়ে ফিরে আসে। এটি হয়তো চোখের সামনে সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় না, কিন্তু সময়ের স্রোতে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে মানুষ অন্যের ক্ষতি করে নিজেকে বড় ভাবতে চায়, সে হয়তো কিছুদিন এগিয়ে থাকে, কিন্তু তার ভেতরের শূন্যতা, অস্থিরতা এবং একসময় বাস্তবতার আঘাত তাকে থামিয়ে দেয়।

অন্যদিকে, যে মানুষ কষ্ট সহ্য করেও সৎ পথে থাকে, সে হয়তো অনেক সময় অবহেলিত হয়, উপহাসের শিকার হয়। কিন্তু সময় তার জন্য এক অদৃশ্য শক্তি হয়ে কাজ করে। ধৈর্য, সততা আর বিশ্বাস—এই তিনটি গুণ একসময় তাকে এমন জায়গায় পৌঁছে দেয়, যেখানে অন্যায়কারীদের অবস্থান টিকে না।

সময় আমাদের শুধু বিচারই করে না, শিক্ষা দেয়। এটি শেখায়—কাউকে কষ্ট দিয়ে সুখী হওয়া যায় না, অন্যায় করে শান্তি পাওয়া যায় না। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে নিজেকে উন্নত করা অনেক বড় শক্তি। কারণ প্রতিশোধ সাময়িক তৃপ্তি দিতে পারে, কিন্তু সময়ের বিচার চিরস্থায়ী সত্য প্রতিষ্ঠা করে।

জীবনের অনেক গল্প আছে, যেখানে দেখা যায়—একসময় ক্ষমতাবান, প্রভাবশালী কিংবা অন্যায়কারী মানুষরা সময়ের কাছে হার মেনেছে। আবার অনেক নীরব, সাধারণ, সৎ মানুষ সময়ের হাত ধরে সম্মান ও স্বীকৃতি পেয়েছে। এই বাস্তবতাই প্রমাণ করে—সময় কখনও ভুল করে না।

এই ফিচারের মূল কথা খুবই স্পষ্ট—অন্যায় দেখলে তাৎক্ষণিক প্রতিশোধের চিন্তা না করে ধৈর্য ধরুন।নিজের কাজ ও চরিত্রকে সঠিক রাখুন, কারণ সেটাই আপনার প্রকৃত পরিচয়।সময়কে বিশ্বাস করুন, কারণ এটি কখনও পক্ষপাত করে না।কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করুন, হতাশায় নয়।

প্রিয় পাঠক, আমার পেশাগত ৪৫ বছরের জীবন একটি দীর্ঘ পথচলা, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তই একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় পাশ করতে হলে প্রয়োজন ধৈর্য, সততা এবং সময়ের প্রতি বিশ্বাস। মনে রাখবেন, সময়ের বিচার সবচেয়ে নির্ভুল, সবচেয়ে গভীর। তাই প্রতিশোধ নয়, নিজেকে গড়ে তোলাই হোক আমাদের লক্ষ্য। কারণ শেষ পর্যন্ত সময়ই সবার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়—নীরবে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে।

লেখক: সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব, সম্পাদক ও প্রকাশক অপরাধপত্র ,কসবা টিভি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

