প্রোফাইল পিকচারের মতো যদি বদলানো যেত জীবন—আলমগীর হোসেনের ভাবনায় বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ফারজানা রশীদ ঢালী ,কসবা টিভি ডেস্ক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিনই অসংখ্য ছবি বদল হয়, স্ট্যাটাস আসে-যায়। কিন্তু কখনো কখনো একটি ছোট্ট বাক্যও আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। ঠিক তেমনই একটি ভাবনার জন্ম দিয়েছেন কসবা টিভির স্টাফ রিপোর্টার আলমগীর হোসেন, নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে।

তিনি লিখেছেন—“জীবনটা যদি প্রোফাইল পিকচারের মতো হতো, প্রয়োজন হলে বারবার পরিবর্তন করা যেত।”এই একটিমাত্র বাক্য যেন আমাদের জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে এক ধরনের নীরব তুলনা টেনে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই নিজের ছবি পরিবর্তন করি—এক ক্লিকে মুছে ফেলি পুরনো, বসিয়ে দিই নতুন। কিন্তু বাস্তব জীবনে কি এতটাই সহজ পরিবর্তন?

মানুষের জীবনে ভুল থাকে, ব্যর্থতা থাকে, আফসোস থাকে। অনেক সময় আমরা চাই—কিছু সিদ্ধান্ত বদলাতে, কিছু সময়কে ফিরিয়ে আনতে, কিংবা কিছু ভুলকে মুছে ফেলতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জীবনের ‘এডিট’ বাটন নেই।আলমগীর হোসেনের এই সংক্ষিপ্ত লেখাটি যেন সেই অক্ষমতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। হয়তো তিনি নিজের অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি কিংবা জীবনের কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্ত থেকে এই কথাটি লিখেছেন। তবে এটি যে শুধুমাত্র তার একার অনুভূতি নয়, তা সহজেই বোঝা যায়—কারণ এই অনুভূতি আমাদের সবার মধ্যেই কোথাও না কোথাও লুকিয়ে আছে।

বর্তমান প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সুন্দর, নিখুঁত এবং সাজানো একটি সংস্করণ তুলে ধরে। সেখানে কষ্ট, ব্যর্থতা বা ভুলের জায়গা খুবই কম। কিন্তু বাস্তব জীবন ঠিক তার উল্টো—এখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের দায় নিতে হয়, প্রতিটি ভুলের মূল্য দিতে হয়।

তবুও এই ভাবনার ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি ইতিবাচক দিকও। জীবনকে প্রোফাইল পিকচারের মতো সহজে বদলানো না গেলেও, মানুষ চাইলে নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে শুরু করতে পারে। পরিবর্তন হয়তো এক ক্লিকে আসে না, কিন্তু ধীরে ধীরে আসে—চেষ্টা, ধৈর্য আর সচেতনতার মাধ্যমে।

আলমগীর হোসেনের এই ছোট্ট স্ট্যাটাস তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; এটি আমাদের সময়, সমাজ এবং মানুষের মনোজগতের একটি প্রতিচ্ছবি। যা আমাদের থামিয়ে দেয়, ভাবায়—আর হয়তো নতুন করে জীবনকে দেখার অনুপ্রেরণা দেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

