সমালোচনা পেরিয়ে সাফল্য: পেটলা নুরু গ্রেফতারে এসআই ফারুক হোসেন—কসবায় মাদকবিরোধী লড়াইয়ে নতুন বার্তা

আকলিমা রশীদ ঢালী :
প্রিয় পাঠক,
সমাজে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তাদের নিয়ে যেমন প্রশংসা হয়, তেমনি সমালোচনাও কম হয় না। বাংলা প্রবাদে আছে—“যার সমালোচনা আছে, তার আলোচনাও আছে।” কসবায় সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই কথাটিই যেন নতুন করে সামনে এসেছে।

মহান স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুব সমাজকে রক্ষা করতে কসবা-আখাউড়া এলাকার সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নিকট ডিও লেটার প্রদান করেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাদকবিরোধী অভিযানে আরও সক্রিয় ও উৎসাহিত করেছে।অপর দিকে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নিকট ডিও লেটার প্রদানের বিষয়টি সময়ের কন্ঠস্বর হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপারের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কসবা থানার অফিসার ইনচার্জের সার্বিক সহযোগিতায় বর্তমানে মাদক প্রতিরোধে জোরালো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় আজ একের পর এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পাশাপাশি মাদক চক্রের অন্যতম গডফাদার ‘পেটলা’ নুরুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এসআই ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় এসআই শামীমসহ পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।কসবা-আখাউড়া অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের একটি অদৃশ্য জাল বিস্তার করে রেখেছিল একটি চক্র। স্থানীয়দের ভাষায়, ‘পেটলা নুরু’ নামটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু প্রশ্ন ছিল—এতদিন কেন ধরা পড়ছিল না এই চক্রের মূল হোতা?

এমন নানা প্রশ্নের মধ্যেই সম্প্রতি কসবা থানার উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ৫১ কেজি গাঁজা পাচারকালে তথ্যসংগ্রহকালে ‘পেটলা নুরু’কে আটক করা হয়।

এই গ্রেফতার কেবল একটি আইনি সাফল্য নয়, বরং কসবা-আখাউড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। বহুদিন ধরে যাকে ধরা অধরা মনে হচ্ছিল, তাকে আইনের আওতায় আনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এর পেছনে যে প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ঘুরে বেড়িয়েছে—কেন এতদিন তাকে ধরা যায়নি—তার উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে বাস্তবতার জটিলতা। মাদকচক্রগুলো সাধারণত সুসংগঠিত, গোপন নেটওয়ার্কে পরিচালিত এবং অনেক সময় তথ্যের অভাব বা কৌশলগত কারণে তাদের ধরতে সময় লাগে।

এসআই ফারুক হোসেনকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। কেউ তার কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ সমালোচনাও করেছেন। মাদকসহ গডফাদারকে গ্রেফতারের ঘটনায় সমাজের সচেতন ও শিষ্টজন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিংবা মাদককে নানাভাবে প্রশ্রয়দানকারী গোষ্ঠীর মধ্যে অস্বস্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা এ নিয়ে সমালোচনায় মুখর হলেও সচেতন মহল তাদের এ অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—মাদক প্রতিরোধে তার ভূমিকা তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। অনেকের কাছে তিনি মাদকবিরোধী অভিযানের একটি ‘আতঙ্কের নাম’—যদিও এই পরিচয় সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদকবিরোধী লড়াইয়ে সফলতা পেতে হলে সময়, ধৈর্য এবং সঠিক তথ্যের সমন্বয় প্রয়োজন। একটি বড় চক্র ভাঙতে তাৎক্ষণিক ফলাফল সবসময় সম্ভব হয় না। কিন্তু ধারাবাহিক প্রচেষ্টা একসময় ফল দেয়—সাম্প্রতিক এই অভিযান তারই একটি উদাহরণ।

এই প্রেক্ষাপটে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন—এই লেখনির মাধ্যমে এসআই ফারুক হোসেনের পক্ষে কোনো অবস্থান গ্রহণ বা ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন প্রদানের উদ্দেশ্য নয়। বরং বাস্তব ঘটনাপ্রবাহ ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা মাত্র।

কারণ সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো নিরপেক্ষতা ও সত্য তুলে ধরা। ব্যক্তি নয়, ঘটনাই এখানে মুখ্য—আর সেই বাস্তবতাকেই পাঠকের সামনে উপস্থাপন করাই এই লেখার উদ্দেশ্য।

সবশেষে বলা যায়, কসবায় পেটলা নুরুর গ্রেফতার শুধু একটি অভিযানের সাফল্য নয়—এটি একটি বার্তা। মাদক যতই শক্তিশালী হোক, আইনের হাত তার চেয়েও দীর্ঘ। আর একটি সচেতন সমাজ ও কার্যকর আইন প্রয়োগের সমন্বয়েই সম্ভব একটি নিরাপদ, মাদকমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে। সমালোচনা থাকবে, আলোচনা থাকবে—কিন্তু সত্য ও বাস্তবতাকেই গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে পারলেই সমাজ পাবে তার কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক পরিবর্তন।

লেখক: ডিগ্রীতে অধ্যায়নরত,সিনিয়র প্রতিবেদক অপরাধ পত্র ও নিউজ প্রেজেন্টার কসবা টিভি ও চ্যানেল ২৬ কসবা উপজেলা প্রতিনিধি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

