হিফজের আলোয় আলোকিত লাড়ুচো পূর্ব পাড়া: নুরে মদিনা মাদ্রাসায় আধ্যাত্মিক সূচনার অনন্য আয়োজন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের লাড়ুচো পূর্ব পাড়ায় এক হৃদয়ছোঁয়া ও আধ্যাত্মিক আবহে অনুষ্ঠিত হলো নুরে মদিনা হিফজুল কুরআন মডেল মাদ্রাসার হিফজ সবক প্রদান অনুষ্ঠান। ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন আর অভিভাবকদের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে দিনটি যেন পরিণত হয়েছিল এক পবিত্র উৎসবে।



লাড়ুচো পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অতিথিরা ছবি-কসবা টিভি
১১ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার বিকেল ৪টায় লাড়ুচো পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ৬ জন শিক্ষার্থীর হাতে পবিত্র কুরআন তুলে দিয়ে তাদের হিফজ যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। শিশুদের মুখে ছিল আনন্দের হাসি, আর চোখে ছিল এক নতুন পথচলার প্রত্যয়।

এই মাদ্রাসাটি ২০২৩ সালে মরহুম আবু জাহের সাহেবের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাংবাদিক এম এ মান্নানের নিরলস প্রচেষ্টায় মাদ্রাসাটি ধীরে ধীরে একটি আদর্শ ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং হিফজ পাঠদান করছেন হাফেজ মাওলানা হাবিবুর রহমান সোহেল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ আবদুল আলীম। উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকরা। প্রধান অতিথি হিসেবে পীরজাদা হযরত মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক তারেক শিক্ষার্থীদের হাতে কুরআন তুলে দেন এবং তাদের জন্য দোয়া করেন।

হিফজ সবক গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলো—ইয়ামিন, আবু বক্কর, শরিফ উদ্দিন, মোস্তফা, তাওহীদ ও রহমত আলী। তাদের এই পথচলা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সমাজ ও জাতির জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

সভাপতির বক্তব্যে আবদুল আলীম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় এম এ মান্নান অনেক কষ্ট করেছেন। আমরা তাকে তেমন সহযোগিতা করতে পারিনি, কিন্তু তার নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আশা করি, সকলের সহযোগিতায় এই মাদ্রাসা একদিন অনেক দূর এগিয়ে যাবে।”
মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, কুরআন হিফজ করা আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। তারা শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করেন এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত। এতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়।
অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, মাদ্রাসার সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও শিক্ষকদের আন্তরিকতা তাদের আস্থা বাড়িয়েছে। তারা তাদের সন্তানদের আদর্শ মানুষ ও দেশপ্রেমিক হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

লাড়ুচো পূর্ব পাড়ার এই ছোট্ট মাদ্রাসাটি যেন আজ এক বড় স্বপ্নের প্রতীক—যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠছে আগামী প্রজন্ম।
নিজস্ব প্রতিবেদক

