ছবি-ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।
প্রিয় পাঠক
সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক আজ অনেকটাই নির্ভর করছে তথ্যের উপর। কিন্তু সেই তথ্য যখন যাচাইহীন, বিভ্রান্তিকর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়—তখনই জন্ম নেয় গুজব, যা মুহূর্তেই অস্থির করে তোলে জনজীবন। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্য আমাদের আবারও সেই বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই ফিচারটি সেই প্রেক্ষাপটেই—কথার গভীরতা, প্রভাব এবং আমাদের দায়িত্ববোধ নিয়ে ভাবনার একটি প্রচেষ্টা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি উক্তি—“গুজবে রটায় নিষ্কেরারা, ছড়ায় বোকারা, আর বিশ্বাস করে গাধারা”—নিয়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। বক্তব্যটি সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা-এর নামে প্রচারিত একটি পোস্টার থেকে ভাইরাল হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহ যেমন দ্রুত, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত। প্রতিদিন অসংখ্য খবর, মতামত ও গুজব মানুষের সামনে হাজির হচ্ছে—যার অনেকটাই থাকে যাচাইবিহীন। ফলে সচেতনতার অভাবে মানুষ সহজেই বিভ্রান্তির শিকার হয়। এই প্রেক্ষাপটে উক্ত বক্তব্যটি অনেকের কাছে কঠোর শোনালেও, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—তথ্য গ্রহণে দায়িত্বশীল হতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গুজব শুধু একটি তথ্যগত সমস্যা নয়; এটি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। একটি ভুল তথ্য মুহূর্তেই মানুষের মধ্যে ভীতি, উত্তেজনা এমনকি সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। তাই গুজব প্রতিরোধে যেমন আইন প্রয়োগ জরুরি, তেমনি প্রয়োজন সচেতন নাগরিক সমাজ।

তবে অন্যদিকে প্রশ্ন উঠেছে ভাষার ব্যবহার নিয়ে। জননেতাদের প্রতিটি শব্দই সমাজে প্রভাব ফেলে। ফলে কঠোর বা অবমাননাকর শব্দচয়ন অনেক সময় ইতিবাচক বার্তাকেও নেতিবাচক করে তুলতে পারে। সমালোচকদের মতে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য সম্মানজনক ও সংযত ভাষা আরও কার্যকর।

সময়ের দাবি হলো—একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান। যেখানে গুজবের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান থাকবে, কিন্তু মানুষের প্রতি সম্মানও অটুট থাকবে। কারণ সচেতনতা কখনোই অপমান দিয়ে নয়, বরং যুক্তি ও মানবিকতার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়।

শেষ পর্যন্ত, দায়িত্ব আমাদের সবার। তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই করা, গুজবে কান না দেওয়া এবং অন্যদেরও সচেতন করা—এই ছোট ছোট পদক্ষেপই পারে একটি সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলে সুস্থ সমাজ।

লেখক: ডিগ্রীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী,সিনিয়র প্রতিবেদক অপরাধ পত্র,চ্যানেল ২৬ কসবা প্রতিনিধি,নিউজ প্রেজেন্টার কসবা টিভি।