ছবি-নারীদের প্রতিকৃতি
আকলিমা রশীদ ঢালী:
প্রিয় পাঠক, কসবা হাসপাতাল নিয়ে ৮টি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়েছে। আজ হাসপাতালকেন্দ্রিক বাস্তবতা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সামনে এসেছে কিছু নারীর নীরব অথচ কঠিন সংগ্রামের চিত্র। জীবিকার তাগিদে, পরিবার বাঁচানোর লড়াইয়ে তারা প্রতিনিয়ত যে সংগ্রাম করে চলেছেন—তারই অজানা দিক তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে। আমি তাদের পক্ষে কথা বলছি না, বরং তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা মাত্র।

কসবা উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালের বারান্দা ঘিরে প্রতিদিন দেখা যায় একদল নারীকে। কখনো রোগীর পাশে, কখনো ডাক্তারের চেম্বারের সামনে—তাদের ব্যস্ত উপস্থিতি চোখে পড়ে। সমাজের প্রচলিত ভাষায় এদের অনেককেই ‘দালাল’ বলে অভিহিত করা হয়। তবে এই একটি শব্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতা যে কতটা কঠিন ও নির্মম—তা অনেকেরই অজানা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসবায় অন্তত ১৫ থেকে ১৮ জন নারী এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। দিনের প্রায় ১০-১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করেও তাদের মাসিক আয় মাত্র পাঁচ হাজার টাকার আশেপাশে। এই সামান্য আয় দিয়েই কেউ চালাচ্ছেন দুই-তিন সন্তানের ভরণপোষণ, আবার কেউ হচ্ছেন ভাঙা বা নির্যাতিত পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

তাদের কাজের ধরনও একেবারে ভিন্ন। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে চান কী সমস্যা, কোন পরীক্ষা করানো হয়েছে কিংবা কোন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কোন ডাক্তার কখন আসেন, কোথায় তুলনামূলক ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়—এসব তথ্য তারা রোগীদের জানিয়ে থাকেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অসহায় ও অজ্ঞ রোগীদের জন্য তারা হয়ে ওঠেন অনানুষ্ঠানিক সহায়ক।

তবুও সমাজ তাদের ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে অবজ্ঞা করে। অথচ বাস্তবতা বলছে—এই নারীরা কেউই অসৎ বা অনৈতিক পথে জড়িত নন। বরং সম্মানজনকভাবে উপার্জনের চেষ্টা করছেন, যাতে পরিবারটিকে টিকিয়ে রাখা যায়। বিকল্প পথের অভাবে তারা এই পেশায় যুক্ত হলেও, তাদের লক্ষ্য শুধুই বেঁচে থাকা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই নারীদের জন্য টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ কিংবা পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের নতুন পথ দেখানো গেলে তারা সমাজে আরও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “আমরা দালাল না, আমরা কাজ করি। কাজ না করলে আমাদের বাচ্চারা না খেয়ে থাকবে।”

লেখক: ডিগ্রীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী,চ্যানেল ২৬,নিউজ প্রেজেন্টার কসবা টিভি।