স্টাফ রিপোর্টার, কসবা টিভি ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কথিত ‘মাদক গডফাদার’ কালা মনির গ্রেফতারের পর নতুন করে নয় এইটা পুরানো আলোচনায় আবার নতুন করে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— তার পেছনে কারা ছিল? কারা দীর্ঘদিন ধরে তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে?

স্থানীয় সূত্র বলছে, কালা মনির শুধু একজন ব্যক্তি নয়, বরং একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের অংশ। বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার পেছনে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া থাকার অভিযোগও উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই নেটওয়ার্ক ভেঙে না দিলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।

সচেতন মহলের অভিমত, “শুধু মাঠপর্যায়ের কারবারিদের গ্রেফতার করলেই হবে না, তাদের পেছনে থাকা মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। নাহলে কিছুদিন পর আবারও একই চক্র সক্রিয় হয়ে উঠবে।”

এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে কসবা রেলওয়ে স্টেশনসহ কালিকাপুরসহ আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা চললেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— কারা এই চক্রকে রক্ষা করছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘গডফাদার’দের শনাক্ত করা। কারণ তারা সরাসরি দৃশ্যপটে না থাকলেও পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। তাই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে অর্থের উৎস, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং প্রভাবশালী সংযোগগুলো চিহ্নিত করা জরুরি।

কসবা থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক ও সংশ্লিষ্টদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল জোর দাবি তুলেছে— কালা মনিরের মতো মাদক কারবারিদের পেছনে যারা রয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি তাদের আহ্বান, যেন কোনো প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হয়।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা— এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।