আকলিমা রশীদ ঢালী :
কসবা উপজেলার বুগির রাস্তায় সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরটা ছিল অন্য দিনের মতোই সাধারণ। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই দুপুর রূপ নেয় এক বিভীষিকাময় স্মৃতিতে। একটি বেপরোয়া অটোরিকশার ধাক্কায় রক্তাক্ত হয়ে পড়ে ৪ বছরের ছোট্ট শিশু আয়ান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই অটোরিকশাটি শিশুটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে শিশুটির রক্ত, আর চারপাশে জমে ওঠে আতঙ্ক আর অসহায়তা।

দ্রুত উদ্ধার করে আয়ানকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারেননি। কিছুক্ষণ পরেই ঘোষণা করা হয়—আয়ান আর নেই।

এই খবর শুনে শিশুটির বাবা আবু ছুফিয়ান ভেঙে পড়েন হাসপাতালের মেঝেতে। বুক চাপড়ে, কাঁদতে কাঁদতে তিনি বারবার বলতে থাকেন, “আমার ছেলেকে একবার ফেরত দাও…!”জরুরি বিভাগের করিডোর জুড়ে তার সেই আর্তনাদ মুহূর্তেই ভারী করে তোলে পুরো পরিবেশ। উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

অদক্ষ চালকের বেপরোয়া গতি—কেন থামছে না এই মৃত্যু?
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় অটোরিকশা চালকদের একটি বড় অংশই প্রশিক্ষণহীন ও অদক্ষ। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে তাদের ধারণা সীমিত, অথচ তারা ব্যস্ত সড়কে নির্বিঘ্নে যান চালিয়ে যাচ্ছে।

ছবি-সংগৃহীত
নিরাপত্তাহীন সড়ক, অদক্ষ চালকের দৌরাত্ম্য-স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় অটোরিকশা চালকদের একটি বড় অংশই অদক্ষ ও প্রশিক্ষণহীন। লাইসেন্সবিহীন চালকরা নির্বিঘ্নে যান চালানোর ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটালে জেল ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াও গুরুতর অপরাধ।

সাপ্তাহিক বিশেষ অভিযানের দাবি-এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কসবা উপজেলার সচেতন মহল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

সচেতন নাগরিকদের মতে, কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান চালানো হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং আয়ানের মতো আর কোনো শিশুকে প্রাণ দিতে হবে না।

এই এক একটি মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা—সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় এমন দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
লেখক: ডিগ্রীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী.চ্যানেল ২৬ ও নিউজ প্রেজেন্টার কসবা টিভি।