ছবি-সংগৃহীত
ফারজানা রশীদ ঢালী
প্রিয় পাঠক,
ডিজিটাল যুগে Facebook-সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের মতপ্রকাশের এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই একই মাধ্যম এখন মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের উর্বর ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি ভুয়া বা বিকৃত তথ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে একজন ব্যক্তি সামাজিক, পারিবারিক এমনকি পেশাগতভাবেও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন। মানসম্মান মুহূর্তেই ধুলায় মিশে যেতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে Facebook-এ কসবা-আখাউড়ার সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী হানিফ খন্দকার-কে নিয়ে বিভিন্ন তথ্যবিহীন ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযোগের তুলনায় প্রচারের গতি যেন অনেক বেশি—যা শুধু একজন ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করছে না, বরং সমাজে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাসও ছড়াচ্ছে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; এটি সমাজকে বিভ্রান্ত করে এবং পারস্পরিক আস্থাকে দুর্বল করে।
প্রযুক্তির সহজলভ্যতার ফলে এখন যে কেউ খুব সহজেই কোনো লেখা বা পোস্ট হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। কিন্তু এই স্বাধীনতার সঙ্গে যদি দায়িত্ববোধ না থাকে, তবে সেটি ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা শুধু অনৈতিক নয়—অনেক ক্ষেত্রে এটি আইনের চোখে অপরাধও। তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী মিথ্যা, মানহানিকর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন পাঠক ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা। কারণ, কোনো অপপ্রচার তখনই শক্তি পায় যখন মানুষ তা যাচাই না করেই বিশ্বাস করে এবং শেয়ার করে। তাই সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। কসবার মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীরা এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় ভূমিকা রাখবেন—এটাই প্রত্যাশা। তবে এ বিষয়ে নীরবতা বা সুবিধাবাদী অবস্থানের অভিযোগও উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যা উদ্বেগজনক।
অপপ্রচার রোধে কিছু বিষয় আমাদের মনে রাখা জরুরি—প্রথমত, কোনো তথ্য দেখলেই তা বিশ্বাস না করে উৎস যাচাই করা উচিত। তথ্যটি কোথা থেকে এসেছে এবং সেটি কতটা নির্ভরযোগ্য—এই প্রশ্নগুলো করা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগমূলক পোস্ট শেয়ার করার আগে ভাবতে হবে—এর পক্ষে প্রমাণ আছে কি না, আর মিথ্যা হলে এর ক্ষতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
তৃতীয়ত, বিভ্রান্তিকর বা অপপ্রচারমূলক কিছু চোখে পড়লে তা রিপোর্ট করা এবং গঠনমূলকভাবে প্রতিবাদ জানানোও নাগরিক দায়িত্বের অংশ।
সমাজে একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে শুধু প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অবশ্যই, কেউ যদি প্রকৃতপক্ষে কোনো অনিয়ম বা অপরাধ করে থাকেন, তবে তার সঠিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা বা জনসমক্ষে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
সবশেষে বলা যায়, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এই লড়াই কেবল একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের নয়—এটি পুরো সমাজের। আর এই লড়াইয়ে পাঠকের সচেতনতা, বিবেকবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।
সচেতন পাঠকই পারেন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং মিথ্যাকে প্রতিহত করতে।
প্রতিবেদক: দি মনিং গ্লোরি কসবা প্রতিনিধি,মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব,নিউজ প্রেজেন্টার কসবা টিভি।