ছবি- সংগৃহীত
ফারজানা রশীদ ঢালী,কসবা টিভি ডেস্ক:
সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন গণমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের ফলে তথ্যপ্রবাহ যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদও বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারাদেশের জেলা পুলিশ সুপারদের কাছে প্রেরণ করে, সেখান থেকে সকল থানার ওসিদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হলে এর কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। কারণ, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে একটি ভুয়া সংবাদ মুহূর্তেই দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা সৃষ্টি আরও বেশি জরুরি। গণমাধ্যম কর্মী, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলতে হবে। সাংবাদিকতা কোনোভাবেই গুজব বা অপপ্রচারের হাতিয়ার হতে পারে না—এটি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত—
নিবন্ধিত ও নীতিমালা মেনে পরিচালিত গণমাধ্যমকে উৎসাহ দেওয়া।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া তথ্য শনাক্তে প্রযুক্তিগত নজরদারি বৃদ্ধি।
সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও নৈতিকতা চর্চা জোরদার করা।
সাধারণ জনগণকে তথ্য যাচাই করে শেয়ার করার বিষয়ে সচেতন করা।
সবশেষে বলা যায়, এই গণবিজ্ঞপ্তি কেবল একটি প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়, বরং একটি বার্তা—সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবহারের। রাষ্ট্র, গণমাধ্যম ও জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি সুস্থ ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।