ছবি-সংগৃহীত
আকলিমা রশীদ ঢালী:
প্রিয় পাঠক,
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমরা সবাই এক বিশাল ডিজিটাল পরিসরের অংশ। এখানে একটি পোস্ট, একটি ছবি কিংবা একটি মন্তব্য মুহূর্তেই জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এই শক্তিশালী মাধ্যম যখন অপপ্রচারের হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন তা শুধু ব্যক্তি নয়—পুরো সমাজের জন্যই এক নীরব বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি “জনতার আদালত” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মাননীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান-এর পিএস মোঃ হানিফ খন্দকার, কসবা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন কামাল, যুবদল নেতা মাসুদুল হক ভূঁইয়া দীপু ও সাহেদুল খা-এর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, এ ধরনের মিথ্যা তথ্য শুধু ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করে না, বরং একটি অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ ব্যবহারের ফলে এখন যে কেউ সহজেই তথ্য প্রচার করতে পারছে, কিন্তু সেই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের প্রবণতা এখনো তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। ফলে ব্যক্তিগত আক্রোশ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা সামাজিক বিদ্বেষ চরিতার্থ করতে অনেকেই মিথ্যা তথ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে সমাজে অবিশ্বাস, বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরি করছে।
আইনবিদদের ভাষ্যমতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ। বিদ্যমান সাইবার আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা যথাসময়ে প্রতিকার পান না বা সচেতনতার অভাবে আইনি সহায়তা নিতে দেরি করেন।
এখানে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কোনো তথ্য দেখলেই তা বিশ্বাস বা শেয়ার না করে প্রথমে যাচাই করা উচিত। একইসঙ্গে অপপ্রচারকারীদের সামাজিকভাবে বর্জন এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
প্রশাসনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি মিথ্যা তথ্য যখন ভাইরাল হয়, তখন তার ক্ষতিকর প্রভাব থামানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।
আমার শেষকথা, প্রিয় পাঠক,
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করেছে, কিন্তু সেই কণ্ঠস্বর যেন মিথ্যার বাহক না হয়। সত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, দায়িত্বশীল আচরণ করা এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়াই একটি সুস্থ, স্থিতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের একমাত্র পথ।
লেখক: চ্যানেল ২৬ কসবা প্রতিনিধি,বিশেষ প্রতিবেদক অপরাধ পত্র,নিউজ প্রেজেন্টার কসবা টিভি।