আকলিমা রশীদ ঢালী,কসবা টিভি ডেস্ক:
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম কেন্দ্র হলো ঈদগাহ। বছরের দুটি বড় ধর্মীয় উৎসবে হাজারো মুসল্লি একত্রিত হন এই খোলা প্রাঙ্গণে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর ঈদগাহও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসল্লিদের প্রধান জামাতস্থল হিসেবে পরিচিত। সময়ের পরিবর্তনে অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে একসময় ঈদগাহটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ অনেকটাই নষ্ট হয়ে পড়েছিল। তবে এখন আবার নতুন করে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে।


স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাবেক সংসদ সদস্য ( বর্তমান সংসদ সদস্য) মুশফিকুর রহমান-এর উদ্যোগে একসময় কসবা পৌর ঈদগাহে উন্নয়নের ধারা শুরু হয়েছিল। ঈদগাহের প্রধান ফটকে তার নামসংবলিত ফলকও স্থাপন করা হয়েছিল। সে সময় ঈদগাহের অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাহটিতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন না হওয়ায় এর বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। মুসল্লিদের চলাচল, নামাজ আদায় এবং বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন নিয়েও নানা সমস্যা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
বর্তমানে কসবা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কসবা পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী কামাল উদ্দিন-এর নেতৃত্বেকমিটির সদস্য ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঈদগাহটির সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। স্থানীয়দের মতে, নতুন করে ঈদগাহকে পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহার উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।
কামাল উদ্দিন কসবা টিভিকে জানান, আসন্ন ঈদুল আযহা-র আগেই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, “ঈদুল আযহার নামাজ যাতে মুসল্লিরা সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে আদায় করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই দ্রুত কাজ করা হচ্ছে।”
স্থানীয় মুসল্লিরা মনে করছেন, ঈদগাহ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। তাই এই ধরনের ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসাথে কাজ করা প্রয়োজন।
সচেতন মহল বলছে, একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়ন মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঈদগাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক হলে ধর্মীয় পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়, তেমনি নতুন প্রজন্মের মাঝেও ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চা বাড়ে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চলমান সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে কসবা পৌর ঈদগাহ আবারও একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় স্থাপনায় পরিণত হবে, যেখানে হাজারো মুসল্লি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাতে অংশ নিতে পারবেন।