ছবি-সংগৃহীত
স্টাফ রিপোর্টার কসবা টিভি ডেস্ক :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার প্রায় ১৯ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে দিন-রাত অবাধে চলছে মাদক ও চোরাচালান বাণিজ্য—এমন অভিযোগ এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জনপদ হয়ে প্রতিনিয়ত ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে মাদকদ্রব্য, প্রসাধনী, শাড়ি, চশমা, মুরগির বাচ্চাসহ নানা ধরনের পণ্য। এতে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি, অন্যদিকে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, কসবার জয়নগর, বায়েক ও কসবা সদরে বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। সীমান্তের গোপন পথ, গ্রামের সড়ক ও আঞ্চলিক জনপথ ব্যবহার করে ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহনে রাত-দিন পাচার করা হচ্ছে এসব অবৈধ পণ্য।
বিশেষ সূত্রের দাবি, এই সিন্ডিকেটে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও অসাধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানা ভয়ভীতি, এমনকি মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে পত্রিকায় লেখালেখি করলে একটি প্রভাবশালী মহল আকরে ইংগিতে বিভিন্ন ভাবে মিডিয়াকর্মীকে মিথ্যা মামলাসহ অন্য মামলায় দিবে বলে হুমকি প্রদানের বিষয়টি প্রশ্ন উঠেছেন।
সীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সীমান্ত সড়কে সন্দেহজনক চলাচল বেড়ে যায়। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানীও মালবহণকারী পিকআপভ্যানে করে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য বহন করা হয়। অনেক সময় স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পারলেও প্রভাবশালীদের কারণে প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারেন না।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের একটি অংশও রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এসব পাচারকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। অবৈধ টাকার একটা বিরাট অংশ কসবা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে দলের কতিপয় নেতাদের পকেটে যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্রটি জানান। একাধিক সূত্রটি আরও জানান জয়নগর ও ধজনগর,কায়েমপুর,বায়েক,কসবা সদর দিয়ে সব চেয়ে বেশি মাদক পাচার হচ্ছে।
ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে চোরাকারবারিরা। এতে সীমান্ত এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা, কিশোরদের মাদকাসক্তি ও অপরাধপ্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
এদিকে সীমান্ত জনপদে মাদক ও চোরাচালানের বিস্তার রোধে কার্যকর অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, সীমান্তে কঠোর মনিটরিং, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত অভিযান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কসবার সীমান্ত শুধু একটি ভৌগোলিক রেখা নয়; এটি দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সীমান্ত এলাকা আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে।