আকলিমা রশীদ ঢালী কসবা টিভি ডেস্ক:
সবুজ মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুরোনো গাছ। গাছে নতুন কুঁড়ি ফুটেছে, কিন্তু পাতার ছায়া এখনো পূর্ণ হয়নি। সেই গাছের গায়ে হাত রেখে দাঁড়িয়ে হাসিমাখা মুখে ছবি তুলেছিলেন ধজনগর বাতানবাড়ি গ্রামের কলেজপড়ুয়া ছাত্র মোরছালিন। কে জানত, সেটিই হবে তার জীবনের শেষ স্মৃতিবিজড়িত ছবি!
শুক্রবার দিবাগত রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে মোরছালিনসহ দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের আহাজারি আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম।
মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক ওয়ালে আপলোড করা ছবিটিতে দেখা যায়, পাতাহীন নতুন কুঁড়ি মেলা গাছের পাশে দাঁড়িয়ে আছে মোরছালিন। ছবিটি এখন শুধুই একটি ছবি নয়—এটি যেন তার অসমাপ্ত স্বপ্ন,অনেক ছবির মাঝে এই ছবিটি না বলা গল্প আর অকাল বিদায়ের নীরব সাক্ষী।
স্থানীয়রা জানান, মোরছালিন ছিল শান্ত স্বভাবের ও ভদ্র ছেলে। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টায় ছিল সবসময়। গ্রামের বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, মাঠে হাঁটাহাঁটি আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতি ধরে রাখা ছিল তার পছন্দের বিষয়।
গ্রামের প্রবীণরা বলছেন, “গাছটিতে যেমন নতুন কুঁড়ি এসেছিল, তেমনি মোরছালিনের জীবনেও ছিল নতুন স্বপ্নের শুরু। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।”
এদিকে সীমান্তে এমন মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
আজ সেই গাছটি নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। নতুন কুঁড়ি মেলা ডালপালার নিচে আর কোনোদিন দাঁড়াবেন না মোরছালিন। কিন্তু ছবিটি থেকে যাবে—একটি তরুণ জীবনের শেষ স্মৃতি