ছবি-সংগৃহীত ও ফাইল
খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী:
কসবার গোপীনাথপুরে দুই চোরাকারবারি আটকের ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই বিএনপি নেতার গঠনমূলক মন্তব্য নতুন এক বার্তা দিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমকে সমর্থন জানানো এবং অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার এই দৃষ্টান্ত স্থানীয় জনমনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দৈনিক ভোরের কাগজে আজ ১১মে একটি সংবাদ চোখে পড়েছে “কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন আটকের” সংবাদ যেমন সমাজে প্রশ্ন তুলেছে, তেমনি কসবায় পুলিশের অভিযানে চোরাকারবারি আটকের পর বিএনপির দুই নেতার মন্তব্য দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন দেখতে চায়— রাজনীতি কি অপরাধীদের রক্ষাকবচ হবে, নাকি সমাজকে অপরাধমুক্ত করার শক্তি হয়ে উঠবে।
একজন বিএনপি নেতা তার মন্তব্যে লিখেছেন, “মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।” অন্যজন লিখেছেন, “তাদেরকে ছাড়িয়ে আনার জন্য নেতাজী যদি থানায় গিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি দুঃখজনক।” এই ধরনের মন্তব্য শুধু সামাজিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং রাজনৈতিক সচেতনতারও বহিঃপ্রকাশ। এতে স্পষ্ট হয়েছে— দলীয় পরিচয় থাকলেই অপরাধ আড়াল করা যাবে না।
বর্তমানে সীমান্তবর্তী জনপদ কসবা নানা ধরনের মাদক ও চোরাচালান সমস্যার মুখোমুখি। এসব অপরাধ দমনে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদেরও সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। কারণ অপরাধী কোনো দলের নয়, অপরাধই তার পরিচয়।
সাংবাদিকতার দায়িত্বও এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কসবা টিভি টুয়েন্টিফোরে প্রকাশিত সংবাদটি সামাজিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর রাজনৈতিক নেতাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে— বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজে প্রভাব ফেলে এবং জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক নেতাদের এমন অবস্থান তরুণ সমাজকে ইতিবাচক বার্তা দেয়। এতে বোঝা যায়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থানই একজন দায়িত্বশীল নেতার পরিচয়। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীকে রক্ষা নয়, বরং অপরাধ নির্মূলে সহযোগিতা করাই হওয়া উচিত রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকার।
কসবা এখন সেই পরিবর্তনের প্রত্যাশায়। যেখানে থানার দরজা অপরাধী ছাড়ানোর জন্য নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহৃত হবে। আর সংবাদমাধ্যম, সচেতন সমাজ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করলে সীমান্ত জনপদে অপরাধ কমিয়ে একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়া সম্ভব হবে।
লেখক:সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব,সম্পাদক,প্রকাশক অপরাধ পত্র ও কসবা টিভি,মোহনা টেলিভিশন ও দৈনিক ভোরের কাগজ কসবা প্রতিনিধি।