স্টাফ রিপোর্টার |
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে জামিনে মুক্ত দুই নারী আসামিকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে কসবা থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, একই গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মেহেদীর সাথে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে ফতেহপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত মেহেদী গং কসবা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর কসবা থানা মামলা নং-৩৭, জিআর-৯৬/২০২৬। অন্যদিকে মো. আলামিনও পৃথকভাবে সিআর-২১৯/২৬ ও সিআর-৩৬৫/২৬ নম্বরে মেহেদীসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।


আলামিনের অভিযোগ, সংঘর্ষের ঘটনার পর প্রতিপক্ষের ভয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছিলেন না। এ বিষয়ে তিনি কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কসবা থানাকে অবহিত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় কসবা থানার মামলা নং-৩৭, জিআর-৯৬/২০২৬-এর দুই আসামি ঝর্ণা আক্তার ও জেসমিন বেগম আদালত থেকে জামিন লাভ করে মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ফতেহপুর নিজ গ্রামে বাড়িঘরের খোঁজখবর নিতে যান। পরে তারা গ্রামের পাশের বাড়ি মনির মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করেন।
অভিযোগ রয়েছে আগমনের বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিপক্ষের মেহেদীসহ লোকজন সেখানে গিয়ে দুই নারীকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে কসবা থানার এসআই ফারুক হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর পুলিশ মনির মিয়ার বাড়ি থেকে জামিনপ্রাপ্ত দুই নারীকে উদ্ধার করে।
এ সময় দুই পক্ষের লোকজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।