প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ৭:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১২:৩৪ পি.এম
মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :
শিশু শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই, প্রতিভা বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে গাজীপুরে বেসরকারি বৃত্তি প্রকল্প পাঠশালা স্পেশাল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন কর্তৃক আয়োজিত শহীদ শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকার কাজী আজিমউদ্দিন কলেজ রোডে অবস্থিত পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সামারডেইল এলিমেন্টরি ইংলিশ স্কুল, গাজীপুর ইউনাইটেড কলেজ ভবন এবং টাঙ্গাইলের নাগরপুরসহ মোট চারটি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই শিফটে আয়োজিত এ পরীক্ষায় প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
পাঠশালা স্পেশাল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ বৃত্তি পরীক্ষায় ২২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। গাজীপুর ছাড়াও ঢাকা, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে অনলাইন ও অফলাইনে আবেদন করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন গাজীপুর সদর মেট্রো থানা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মোঃ মেহেদী হাসান (এলিস), বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের ভাইস-চেয়ারম্যান হাবিবুল হক সিদ্দিকী, গাজীপুর কেজি স্কুল এসোসিয়েশনের সদর মেট্রো থানার সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ , বিখ্যাত ব্রেনজীম ট্রেইনার মোঃ নুরুল আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সংশ্লিষ্ট অতিথিরা।
সরেজমিনে বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আগ্রহ ও মনোযোগের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেয়। অন্যদিকে কেন্দ্রের বাইরে সন্তানদের অপেক্ষায় ভিড় করেন অভিভাবকরা। সন্তানদের এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, অত্যন্ত সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশ্নপত্রের মান, পরীক্ষা পরিচালনা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
অভিভাবকরা আরও বলেন, সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় এ ধরনের বেসরকারি বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পাশাপাশি নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করছে। এর মাধ্যমে শিশুদের পরীক্ষা-ভীতি কমে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং ছোটবেলা থেকেই প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানান তাঁরা।
পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব সানজিদা রশিদ জানান, ৪টি কেন্দ্রে ৪ জন কেন্দ্র সচিব, ১২২ জন কক্ষ পরিদর্শক এবং ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতায় পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শহীদ শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও পাঠশালা স্পেশাল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেন, “আমরা ২০১১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এ বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে আসছি। শিশু শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, প্রতিভা অন্বেষণ এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।”
তিনি আরও জানান, এবারের পরীক্ষায় বিভিন্ন জেলা থেকে অনলাইন ও অফলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, শিশুদের মেধা বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের বৃত্তি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত আয়োজন ও যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে এ উদ্যোগ—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।