কসবা-আখাউড়ায় বেপরোয়া আসামীরা—নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন, কঠোর পদক্ষেপের দাবি

ছবি-সংগৃহীত
স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া এলাকায় মাদক ও নারী নির্যাতন মামলার একাধিক আসামীর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আসামীদের অনেকেই আইনগত প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে এসে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। এই অপরাধীদের ব্যাপক তৎপরতা সীমান্ত এলাকা গুলোতে বলে একাধিক সূত্রটি জানান।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানান, মাদক ব্যবসা ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করায় অপরাধপ্রবণতা যেন আরও উৎসাহ পাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বললে বা প্রতিবাদ করতে চাইলে উল্টো হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয়। ফলে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের পরিস্থিতি আইনের শাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে।অপর দিকে বিভিন্ন জেলা থেকে অপরাধীরা বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে অপরাধীদের আশ্রয় দিয়ে রাতের বেলায় মাদক ও নারী আসরের আড্ডা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রটি জানান। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি গ্রামে খোঁজ খবর নিয়ে তালিকা করে অভিযান পরিচালনা করার জন্য সচেতনমহল জোর দাবী জানান।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকাকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র গ্রেফতারই নয়, মামলাগুলোর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা প্রয়োজন।
এছাড়া সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং ধর্মীয় নেতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাক্ষীদের সুরক্ষা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে।

সবশেষে বলা যায়, কসবা-আখাউড়ার বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বলিষ্ঠ ভূমিকা, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা—এই তিনটির সমন্বয়েই সম্ভব একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলা।(আগামী প্রতিবেদনে অপরাধীদের নামের তালিকা প্রকাশ নিয়ে বিস্তারিত)
নিজস্ব প্রতিবেদক

