তারেক রহমানের দেশে না ফেরার রহস্য আরও ঘনীভূত—ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তীব্র বিশ্লেষণ ও নতুন প্রশ্ন

ছবি-সংগৃহীত-
………. খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী…………
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে না ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জোর আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান সম্প্রতি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগভরা মন্তব্য করেন। অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি টান প্রকাশ করলেও দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো পরিষ্কার ঘোষণা দেননি। তার এ বক্তব্য এখন নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে।

অসুস্থ মায়ের পাশে না থাকতে পারা—দলের ভেতরে কানাঘুষা বেড়েছে-বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এমন পরিস্থিতিতে ছেলের দেশে ফিরে মায়ের পাশে থাকার প্রত্যাশা ছিল বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে তিনি ফিরছেন না—এ বিষয়টি দলীয় তৃণমূল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তারেক রহমান তার পোস্টে লিখেছেন—“মায়ের জন্য মনটা ভেঙে যায়। অনেক কথা বলা যায় না… সময়ই সব কিছু বলে দেবে।”এই “বলা যায় না” আর “সময়ই বলবে”—এই দুটি শব্দই এখন দেশজুড়ে প্রশ্নের ঝড় তুলেছে।
আইনি বাধা নাকি রাজনৈতিক কৌশল? বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা রীতিমতো জটিল।

বাংলাদেশের বিভিন্ন মামলায় তিনি দণ্ডিত থাকায় দেশে ফিরলে তাৎক্ষণিক আইনি প্রভাব পড়তে পারে।ফেরার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার অথবা আদালতে হাজিরার মতো বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, দলীয় কৌশলগত কারণেও তার বিদেশে থাকা BNP’র একটি অংশ প্রয়োজন মনে করে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন—তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকলেও বিএনপির নীতি–নির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো লন্ডন থেকেই দিচ্ছেন। ফলে তার দেশে ফেরা দলীয় আন্দোলন–সংগঠন পুনর্গঠনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সমর্থকদের আবেগ, কিন্তু নেতারা নীরব-বিএনপির সাধারণ সমর্থক ও তরুণ কর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন—“মায়ের এমন অসুস্থতার পরেও কি একজন ছেলে দেশে ফিরবে না?”

এ নিয়ে তারা ব্যথিত ও মানসিকভাবে হতাশ বলে মন্তব্য করছেন।

তবে বিএনপির শীর্ষ নেতারা এ বিষয়ে খুব বেশি মন্তব্য করছেন না। তারা বলছেন—“এটি দলের অভ্যন্তরীণ কৌশলের বিষয়। সময়মতো সব জানানো হবে।”
ফেসবুক পোস্টে যে ধোঁয়াশা তৈরি হলো-তারেক রহমানের পোস্টটি অসপষ্ট, আবেগপূর্ণ এবং ইঙ্গিতপূর্ণ। তিনি মাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও নিজের অবস্থান বা সিদ্ধান্ত পরিষ্কার করেননি।

তিনি কি আইনি ঝুঁকির কারণে আসছেন না? নাকি দলীয় কৌশলগত কারণে দেশে ফেরা স্থগিত? নাকি আন্তর্জাতিক কোনো চাপ বা সমঝোতা রয়েছে যার কারণে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করতে পারছেন না?
এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর নেই তার লেখায়।

তাই রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনসাধারণ মনে করছে—“এটা শুধু একটি ফেসবুক পোস্ট নয়; বরং একটি রহস্য–ইঙ্গিত, যার পেছনে রয়েছে লুকানো রাজনৈতিক সমীকরণ।”

তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়, তবে এবার অসুস্থ মায়ের প্রসঙ্গ যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়েছে। তারেক রহমানের বক্তব্যের ধোঁয়াশা, দলের নীরবতা এবং আইনি জটিলতার সমন্বয়ে পুরো বিষয়টি এখন রহস্যে আচ্ছন্ন।

রাজনৈতিক মহল বলছে—“এই রহস্যের জট কবে খুলবে, তা এখন শুধু সময়ই বলে দেবে।”
লেখক: সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব ও সম্পাদক,কসবাটিভি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

