কসবায় শক্তির রাজনীতি নয়, চাই শান্তির রাজনীতি

ছবি-ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত-
: খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী:
কসবা এখন এক সংবেদনশীল সময় অতিক্রম করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় এমন কিছু আচরণ ও বক্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে মনে হচ্ছে কেউ কেউ একাই রাজনীতি, জনপ্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতার প্রদর্শন করতে চাইছেন। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে বা মত প্রকাশ করলে পরোক্ষভাবে ঠান্ডা হুমকির পরিবেশ তৈরির অভিযোগও উঠছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

রাজনীতি মূলত জনগণের সেবা করার একটি মাধ্যম। কিন্তু যখন রাজনীতি ব্যক্তিগত শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন সমাজে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়। স্থানীয় রাজনীতি দুঃখজনকভাবে কসবায় এমন পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে—যেখানে ক্ষমতার প্রদর্শন এতটাই তীব্র যে একটি নিরীহ শিশু এমনকি মিডিয়াও সেই পরিবেশ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বলে অনেকেই বাস্তব অভিযোগ করছেন। আপনি যে কথা বলেননি সে কথা মন গড়া ভাবে চাপিয়ে অহেতু চাপ প্রয়োগ করে আপনাকে ডেকে নিয়ে সরাসরি অপমান করার বাস্তব প্রমাণ আছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অনেকটা পশ্চিমা বিশ্বের কিছু দেশের “শক্তির রাজনীতি”র মতো—যেখানে ক্ষমতা প্রদর্শনই হয়ে ওঠে প্রধান বিষয়। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজের সংস্কৃতি ভিন্ন। এখানে মানুষের প্রত্যাশা হলো শান্তি, পারস্পরিক সম্মান এবং সহনশীলতা।

কসবাবাসী দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে চায়। তারা চায় এমন নেতৃত্ব, যারা মানুষের পাশে থাকবে, বিরোধী মতকেও সম্মান করবে এবং উন্নয়নের রাজনীতি করবে। ভোটাররা যখন কাউকে নির্বাচিত করেন, তখন তারা মূলত আশা করেন—সে ব্যক্তি জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করবেন, সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কসবায় এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি। যেখানে ভিন্ন মতকে দমন নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। রাজনৈতিক নেতাদেরও মনে রাখতে হবে—ক্ষমতা স্থায়ী নয়, কিন্তু মানুষের আস্থা ও সম্মান দীর্ঘস্থায়ী।
লেখক:খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী, সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব, সম্পাদক,কসবা টিভি ও অপরাধ পত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক

