কসবা-আখাউড়ার বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান এর বর্ণাঢ্য জীবন।

জন্ম-
আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান ৮ই জানুয়ারী ১৯৪০ইং সালে নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ছতুরা শরিফ গ্রামে এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মৌঃ মুনিরুজ্জামান ও মাতা মরহুম হামিদুন্নেছা।

শিক্ষা জীবন ঃ-
তিনি ইংলিশ মিডিয়াম কনভেন্ট থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ও সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপান্তে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সমাপ্ত করেন। অতঃপর ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর সম্মানসহ ¯স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে লন্ডন অক্সফোর্ড ইউনিভারসিটি হতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর পোষ্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রী আর্জন করেন।
পারিবারিক জীবন ঃ-
পারিবারিক জীবনে মুশফিকুর রহমান তিন কন্য সন্তানের জনক। তাঁর সহধর্মীনী মিসেস জেবুন্নেছা এম. রহমান। বড় মেয়ে মেহভীন রহমান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্থনীতিতে সম্মানসহ ¯œাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। মেঝ মেয়ে মুনা ইশতিয়াক। তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে সম্মানসহ এম এ ডিগ্রী লাভ করেন। ছোট মেয়ে সানিয়া রহমান। আমেরিকা গেটিসবার্গ কলেজ (প্যানসালভেনিয়া) থেকে ডিগ্রী লাভসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস স্কুল খ্যাত থেকে এম.বি.এ করেন। তারা তিনজনই বিবাহিতা।

কর্ম জীবন ঃ-
১৯৬২ সালে কর্ম জীবনে প্রবেশ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত হন। ওই সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষকতাও করেন। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন সিভিল সার্ভিস সি.এস.পি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং সিভিল সার্ভিস এর ক্যাডার হিসেবে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিযুক্তি লাভ করেন।
তিনি ১১ এপ্রিল ১৯৬৬ সালে পাবনার সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদেন, পরে ১ মে ১৯৬৭ সালে নেত্রকোনা জেলার মহকুমা প্রশাসক(এসডিও) হিসেবে বেশ সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন।
১ মে ১৯৬৮ সালে পাকিস্থানের শিয়াল কোর্ট এর ডেসকার এসডিএম হিসেবে যোগদেন। পরে তিনি ১ ডিসেম্বর ১৯৬৯ সনে পাকিস্থানের লাহুরের ওয়াবদার পরিচালক হন। সেখান থেকে ১১ মে ১৯৭০ সনে ঢাকা কো-অপারেটিভ সোসাইটির যুগ্ম রেজিষ্টার হিসেবে যোগদেন। এর পরে তিনি ১০ মে ১৯৭২ সনে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখান থেকে তিনি ১৭ জুলাই ১৯৭৪ সনে ইআরডি মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব হিসেবে যোগদেন। ৪ আগষ্ট ১৯৭৬ সনে দেশের অন্যতম সমুদ্র বন্দর নগরী খুলনা জেলার উপ-কমিশনার হিসেবে যোগদেন এবং সে সময়ে তিনি খুলনার উন্নয়ন ও সমন্বয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন। সেখান থেকে তিনি ৭ মার্চ ১৯৭৭ সনে ইআরডি মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম-সচিব হিসেবে যোগদেন।

পরে তিনি নভেম্বর ১৯৭৮ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ইটালি রোমে সদর দফতর ইফাদ এ চাকুরী করেন। ১৭ অক্টোবর ১৯৮১ সনে তিনি এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম-সচিব হিসেবে যোগদেন। সেখান থেকে তিনি ২৮ নভেম্বর ১৯৮২ সনে শিল্প মন্ত্রনালয়ে যোগদেন। ২৪ জুন ১৯৮৪ সনে দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উন্নয়নের একমাত্র সংস্থা বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক) এর চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদেন। সে সময় তিনি দেশের অবহেলিত খাতটির উন্নয়নে ও প্রসারে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। ওই সময়ে তিনি ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন সম্প্রসারণে আন্তঃদেশীয় প্রতিষ্ঠান টেকনোনেট এশিয়া এর দু’বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

১০ ডিসেম্বর ১৯৮৮ সনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রতিষ্ঠান বিদেশে রপ্তানী ও উন্নয়ন সম্প্রসারনে সরকারী সংস্থার প্রধান নির্বাহী হিসেবে এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়। এ সময়ে দেশের রপ্তানী বৃদ্ধিতে বিদেশে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখে দেশের শিল্প ও বাণিজ্যে প্রভূত উন্নতি সাধন করেন।
৫ জুন ১৯৯০ সালে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব নিযুক্ত হন। বেকার যুবকদের চাকুরী সৃষ্টি এবং দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি । ৩ মার্চ ১৯৯১ সালে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিআরডি) সচিব পদে নিয়োগ পান। ১৩ জানুয়ারি ১৯৯৪ সালে তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশ ও জাতির মুখকে উজ্জ্বল করেন।

জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে তিনি সরকারি চাকুরি থেকে অবসর নেন।
তিনি তার দীর্ঘ কর্মজীবনে এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, সোভিয়েট রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ওয়েষ্ট ইন্ডিজসহ বিভিন্ন দেশে সফর করেন।
রাজনৈতিক জীবন ঃ-
ছাত্র জীবন থেকেই মুশফিকুর রহমান বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ৫ জুন ২০০০ইং মুশফিকুর রহমান বিএনপিতে যোগদান করেন। তাঁকে বিএনপির’র চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর উপদেষ্টা মনোনীত করেন এবং ২০০১ সনে বিএনপি ও চারদলীয় ঐক্য জোট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।
তিনি অর্থমন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ছিলেন। তিনি ইতিমধ্যে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে সর্ব মহলে পরিচিত লাভ করেছেন। ২০০১ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আখাউড়া-কসবা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন তথা রাস্তা-ঘাট,স্কুল-কলেজ,মাদ্রাসা,মসজিদ-মন্দির, ইউনিয়ন পরিষদ, ব্রীজ কালভার্ট, খেলার মাঠসহ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে আর্থসামাজিক উন্নয়নের ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
যার ফলে আখাউড়া-কসবা এলাকার অবকাঠামো নির্মাণের রুপকার হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন। তিনি হাজার হাজার যুবক-যুবতী ও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রভুত সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।

এ ছাড়া ও মুশফিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের সংস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাম নাই এসোসিয়েশন এর দু’বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। বাংলাদেশের অর্থনীতি সমিতি ও বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা সমিতির আজীবন সদস্য। পাশা পাশি ঢাকায় প্রবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাবাসীদের প্রধান সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।
হানিফ খন্দকার,কসবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া।তারিখ ১৪-১১-২০২৫ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক

