জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে মুসলিম বিশ্বের শান্তির দূত

ছবি-সংগৃহীত ফেইসবুক থেকে
: খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী:
ইরান-ইরাক যুদ্ধ থামাতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজকের প্রতিবেদনটির লেখা। ইতিহাসের পাতা ভুল করে না, মনে করিয়ে দেয়,স্বরণ করিয়ে দেয়।

প্রিয় পাঠক আপনাদের মনে আছে ইরান–ইরাক যুদ্ধ থামাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা; ওআইসি শান্তি মিশনে ছিল বাংলাদেশের দৃশ্যমান উপস্থিতি।

বিশ্ব রাজনীতির উত্তাল সময়ে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় তার সক্রিয় অবস্থান তাকে একজন দূরদর্শী ও প্রভাবশালী নেতার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

১৯৮০-এর দশকের শুরুতে শুরু হওয়া Iran–Iraq War মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো মুসলিম বিশ্বকে গভীর সংকটে ফেলে দেয়। যুদ্ধের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থামাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়, যেখানে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে একত্রিত করার চেষ্টা চালায় Organisation of Islamic Cooperation (ওআইসি)।

এই প্রেক্ষাপটে ওআইসির শান্তি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত মিশনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের পথ তৈরি করতে কূটনৈতিক উদ্যোগে অংশ নেন। তার এই অংশগ্রহণ শুধু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি শক্ত অবস্থানই তুলে ধরেনি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদাও বৃদ্ধি করেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিয়াউর রহমানের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বাস্তবমুখী ও দূরদর্শী। তিনি বিশ্বাস করতেন, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা শুধু ওই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তি, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ তখনো নবীন রাষ্ট্র। সেই সময়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সহজ ছিল না। তবুও জিয়াউর রহমান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের উপস্থিতি জোরালোভাবে তুলে ধরেন এবং মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় দেশের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন।

অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ভারসাম্য ও বাস্তবতা। তিনি একদিকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেছেন, অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর ঐক্য ও শান্তির প্রশ্নেও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জিয়াউর রহমান শুধু বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না; বরং তিনি নিজেকে মুসলিম বিশ্বের একজন দূরদর্শী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার কূটনৈতিক ভূমিকা আজও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হয়।
লেখক:খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী, সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব, সম্পাদক,কসবা টিভি ও অপরাধ পত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক

