‘কথিত সাংবাদিক’ তকমা: সংবাদপত্রের কলমে মানহানি, প্রশ্নের মুখে সাংবাদিকতার নৈতিকতা

: খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী :
প্রিয় পাঠক আপনাদেরকে একটু কথা বলে। আমি কুমিল্লা কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র ১৯৮৩ । আমি কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সমাজকন্ঠের দায়িত্বে ছিলাম। তখনকার সময় শ্রদ্ধেয় সাপ্তাহিক আমোদ পত্রিকার সম্পাদক রেজাই রাব্বী স্যার,দৈনিক রুপসি বাংলার সম্পাদক আব্দুল ওহাব স্যার, ফলক পত্রিকার সমম্পাদক আলতাফ হোসেন ভাই, বাংলাদেশ সংবাদের জাকারিয়া মজুমদার স্যার, কুমিল্লা জেলার দৈনিক ইওেফাকের সাংবাদিক গোলাম মেস্তাফা ভাই , রংঙধনু পত্রিকার শামীম রেজা,কুমিল্লার মিজান ভাই, বাবুল ভাই,সামাদ ভাই অনেক সাংবাদিকদের সাথে আড্ডা হত ,কথা হত। এখন অনেকেই নেই,আছে সুন্দর কুমিল্লা শহর এবং এক ঝাক তরুণ ও মিঠু ভাইসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা । কুমিল্লার পত্রিকা দিয়েই আমার সাংবাদিকতার হাতে খড়ি।

এখন আসল কথায় আসি গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং মানুষের অধিকার রক্ষা করাই সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য। কিন্তু যখন সেই গণমাধ্যমেই যাচাই-বাছাই ছাড়াই কাউকে ‘কথিত সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এটি কি সত্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, নাকি ব্যক্তিগত মানহানির এক নতুন রূপ?

সম্প্রতি কুমিল্লার কয়েকটি গণমাধ্যমে সাংবাদিক রেজাউলকে ‘কথিত সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশিত সংবাদের পর সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন, এ ধরনের সংবাদ তার পেশাগত মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি সরাসরি মানহানির শামিল।
আইনজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী কারও সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা মানহানির অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি। কারণ একটি শব্দ, একটি তকমা বা একটি ভুল তথ্য একজন মানুষের দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান মুহূর্তেই প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারে।

সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। এখানে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, একপেশে তথ্য বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের প্রভাব সংবাদে প্রতিফলিত হচ্ছে, যা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, ‘কথিত সাংবাদিক’ বা এ ধরনের তকমা ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করা শুধু একজন ব্যক্তির সম্মানহানিই নয়, বরং এটি সাংবাদিকতার নৈতিকতারও অবমাননা। কারণ সংবাদপত্রের কলম কখনোই কারও ব্যক্তিগত আক্রমণের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়।

এই ঘটনার পর সাংবাদিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বজায় রাখতে হলে তথ্য যাচাই, নৈতিকতা এবং পেশাগত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় অপসাংবাদিকতার অভিযোগ আরও বাড়বে এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে।
সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতার শক্তি সত্যে—তকমায় নয়। তাই সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
লেখক: সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব,সম্পাদক কসবা টিভি ও অপরাথ পত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক

