মিথ্যা সংবাদ প্রচার: একাধিক ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকার মানহানি মামলার প্রস্তুতি

ছবি-সংগৃহীত
সত্যবাক :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ফেসবুকে একাধিক আইডি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীরা এখন আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একাধিক ফেসবুক আইডি থেকেসহ কিছু প্রিন্ট মিডিয়া,অনলাইন পোর্টালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগে বলা হয়, এসব আইডি থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই বিভ্রান্তিকর পোস্ট, ভুয়া নিউজ ও অপমানজনক কনটেন্ট ছড়িয়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।

এদিকে, অভিযুক্ত ফেসবুক আইডিগুলোকে চিহ্নিত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ আইনজীবীর কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে মানহানির বিষয়টি ফৌজদারি ও দেওয়ানি—উভয় আইনের আওতায় বিচারযোগ্য। দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় মানহানির অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তির বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দেওয়ানি আদালতে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিতেও মামলা করতে পারেন, যা প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ভিউ বা জনপ্রিয়তার আশায় যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধে পরিণত হতে পারে।অপর দিকে একাধিক ফেক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোকে সাইবার অপরাধ হিসেবেও বিবেচনা করা হতে পারে, যা আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় পড়ে।

সচেতন মহল মনে করে, মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তথ্যের সত্যতা যাচাই, দায়িত্বশীল আচরণ এবং নৈতিকতার চর্চাই পারে একটি সুস্থ ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে।
নিজস্ব প্রতিবেদক

