সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় আসামি গ্রেপ্তারে স্বস্তি, বিচার প্রত্যাশা পরিবারের

ছবি : সংগৃহীত
কসবা টিভি ডেস্ক:
কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রায় এক দশক পর প্রথমবারের মতো একজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত তনুর বাবা-মা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আদালতের কাঠগড়ায় আসামিকে দেখে ন্যায়বিচারের আশা দেখছেন তারা।

গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হকের নির্দেশে এ মামলার আসামি, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে এই মামলায় প্রথমবারের মতো কোনো আসামিকে আদালতে হাজির করা হলো।
প্রতিক্রিয়ায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, “অনেক বছর পর আসামিকে চোখে দেখলাম, এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে—এটাই বড় কথা। দেশের মানুষও এই ঘটনার বিচার দেখতে চায়।” তিনি আরও জানান, এতদিন সবাই তাকে মামলার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি কোনো উত্তর দিতে পারতেন না, এখন অন্তত বলতে পারছেন যে একজন আসামি ধরা পড়েছে।
তনুর মা আনোয়ারা বেগমও আশা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ কষ্টের পর তারা যেন ন্যায়বিচার পান। তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করলেও দীর্ঘদিন কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তে তনুর মরদেহের পোশাকে তিন ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া যায়, যাদের সবাই সাবেক সেনা সদস্য। তারা হলেন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদ, সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সাবেক সৈনিক শাহিদুল আলম। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। আদালতের নির্দেশে ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক

