কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক-কৃষাণী, স্কুলের বারান্দায় আশ্রয় ফসলের

আকলিমা রশীদ ঢালী:
বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা—খোলা আকাশের নিচে শুকাতে না পেরে চাপিয়া সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধান ছড়াচ্ছেন কৃষাণীরা।
কালবৈশাখী ঝড় আর টানা বৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আশপাশের এলাকায় ধান কাটা কৃষক-কৃষাণীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। মাঠ থেকে কষ্ট করে কেটে আনা ধান ঘরে তোলার আগেই বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষাণী স্থানীয় স্কুলের বারান্দায় ধান ছড়িয়ে শুকানোর চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ের পর থেকে রোদ না থাকায় খোলা জায়গায় ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। গ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বারান্দা, টিনশেড ঘর কিংবা যে কোনো ছাউনি পাওয়া জায়গাই এখন কৃষকদের জন্য অস্থায়ী ‘ধান শুকানোর মাঠে’ পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নারী কৃষিশ্রমিকদের (কৃষাণী) উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো—তারা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ধান উল্টেপাল্টে শুকানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় এক কৃষাণী বলেন, “অনেক কষ্ট করে ধান কাটছি। এখন বৃষ্টির কারণে যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আমাদের সব পরিশ্রম বৃথা যাবে। তাই বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দায় ধান ছড়াইছি।”
কৃষকরা জানান, হঠাৎ কালবৈশাখীর আঘাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি। অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যে ফসল রক্ষা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ভেজা ধান সংরক্ষণ করতে না পারলে তা পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা তাদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত শুকানোর ব্যবস্থা বা সরকারি সহায়তা না থাকায় কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। তারা দ্রুত অস্থায়ী শুকানোর স্থান, ত্রিপল বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়ার এ ধরনের বৈরী পরিস্থিতিতে ধান দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে শুকানোর বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। না হলে কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসলই হয়ে উঠবে তাদের দুঃখের কারণ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের এমন বাস্তবতায় কৃষক-কৃষাণীদের এই সংগ্রাম যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—দেশের খাদ্য নিরাপত্তার পেছনে তাদের অবদান কতটা কঠিন ও অনিশ্চয়তায় ভরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক

