ক্ষমতার ছায়ায় বিশ্বাসঘাতকতা ও নৈতিক অবক্ষয়: সমাজের অদৃশ্য সংকট

কসবা টিভি ডেস্ক:
সমাজে কিছু মানুষ থাকে, যারা সময়ের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সম্পর্ক, নীতি ও বিশ্বাস—সবকিছুকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ফেলে। সুযোগের আলোতে তারা খুব দ্রুত সামনে আসে, আবার প্রয়োজনে একই গতিতে পিছনেও সরে যায়। এই ধরনের মানসিকতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং সামাজিক কাঠামোকেও ধীরে ধীরে দুর্বল করে তোলে।

বর্তমান সমাজে এমন কিছু প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যেখানে নৈতিকতার চেয়ে ক্ষমতা, প্রভাব এবং দখলদারিত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কেউ কেউ স্বার্থের জন্য সম্পর্ক তৈরি করে, আবার প্রয়োজন শেষ হলে সেই সম্পর্ককেই ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এই আচরণ সমাজে অবিশ্বাসের একটি নীরব দেয়াল তৈরি করে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকেও প্রভাবিত করে।

অনেক সময় দেখা যায়, এই ধরনের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আশেপাশে তরুণদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ে। ভুল দৃষ্টিভঙ্গি ও দিকনির্দেশনার অভাবে তারা সঠিক পথ থেকে সরে যায়। এতে সমাজে বিভাজন বাড়ে, আর সাধারণ মানুষ নীরব হয়ে যায়—কারণ তারা প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস পায় না বা নিরাপদ বোধ করে না।

তবে সমাজের বাস্তবতা হলো—অন্যায় যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তা স্থায়ী হয় না। সময়ের একটি নিজস্ব বিচার আছে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যেসব প্রবণতা ন্যায়, নীতি ও মানবিকতার বিপরীতে দাঁড়ায়, সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানুষের বিশ্বাস ও নীরব প্রতিবাদ এক সময় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।

এই অবস্থায় সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের দায়িত্ব আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নীরবতা ভেঙে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াই হতে পারে টেকসই পরিবর্তনের পথ। মনে পড়ে বাংলা ছায়াছবির গল্পের কথা— যেন তিন বন্ধু সিনেমার মত রাজন,মোহন,সুমন । ওরা একদিন হারিয়ে যোবে। তাদেরকে বাতি দিয়েও খোঁজে পাওয়া যাবে না। শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

শেষ পর্যন্ত, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়—মূল প্রশ্ন হলো নৈতিকতার অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে। সমাজ যদি সত্য, ন্যায় ও মানবিকতাকে ধারণ করে, তবে যে কোনো অন্ধকারই একদিন কেটে যাবে। হঠাৎ করে একজন হাসি তামাশায় ছলে বলেছেন “ আহ ভাঙ্গিনা আহ,মাঠে খেলা হবে”।
নিজস্ব প্রতিবেদক

