হুমকি নয়, সত্যের পথেই সাংবাদিকতা

ছবি-ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত-ছবির শিরোনামসহছবি কথা বলে।
খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী:
প্রিয় পাঠক,
আজকের লেখাটি নিয়ে কলম ধরার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকেই দুই কলম লিখতে বসলাম। কারণ, দেশে প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটছে। কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম তুললেই কোনো না কোনোভাবে হুমকি, ভয়ভীতি কিংবা চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের।
প্রশ্ন হলো—কেন? কীসের এত ভয়? সত্য প্রকাশিত হলে কার স্বার্থে আঘাত লাগে? যারা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য, কর্মসূচি কিংবা প্রচারণা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চান, তারাই আবার কোনো সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশিত হলে সাংবাদিকদের হুমকি দিতে দ্বিধা করেন না। এটি এক ধরনের দ্বিচারিতা, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিগত সরকারের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেখা গেছে, কিছু রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহল সমালোচনা সহ্য করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারেনি। ক্ষমতা কিংবা প্রভাব চিরস্থায়ী নয়—এই সহজ সত্যটি অনেকেই ভুলে যান। ইতিহাস সাক্ষী, সময়ের চাকা সবসময় এক জায়গায় থেমে থাকে না। আজ যে প্রভাবশালী, কাল সে সাধারণ মানুষের কাতারেও দাঁড়াতে পারে।
সাংবাদিকরা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর শত্রু নন। তারা সমাজের আয়না। সেই আয়নায় নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখে কেউ যদি অস্বস্তি বোধ করেন, তবে আয়নাকে ভাঙার চেষ্টা নয়, নিজের অবস্থান সংশোধন করাই হওয়া উচিত।
হুমকি দিয়ে কলম থামানো যায় না। সত্যকে সাময়িকভাবে আড়াল করা গেলেও চিরদিন চাপা রাখা যায় না। তাই আসুন, ভয়ভীতি নয়—যুক্তি, তথ্য ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গড়ে তুলি। মনে রাখতে হবে, এই দিনও থাকবে না; সামনে আরও দিন আছে, আরও সময় আছে, আর ইতিহাস সবকিছুর হিসাব সংরক্ষণ করে।
সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করে সত্যকে দীর্ঘদিন আড়াল রাখা যায় না। বরং স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতা একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক শক্তির পরিচায়ক। তাই যে কোনো ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা এবং আইনি পদক্ষেপ জরুরি। কারণ সত্যের পথ যতই কঠিন হোক, একটি দায়িত্বশীল সমাজে সত্য প্রকাশের অধিকার সবসময় সুরক্ষিত থাকা উচিত।
লেখক:সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব, সম্পাদক প্রকাশক অপরাধ পত্র ও কসবা টিভি,মোহনা টেলিভিশন ও দৈনিক ভোরের কাগজ কসবা প্রতিনিধি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

