কসবায় ভূমি দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ: নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার,কসবা টিভি ডেস্ক:
ভূমি দখল, প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলাতেও আলোচিত একটি বিষয়। এ পরিস্থিতিতে ভূমি দখলকারী, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিকারী এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (বিএইচআরসি) কসবা উপজেলা শাখা।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী মহল যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি থেকে রক্ষা করতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অনেক সময় দুর্বল ও অসহায় মানুষ নানা ধরনের চাপের মুখে পড়েন। কেউ কেউ জমি দখলের অভিযোগ করেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের সম্পত্তির অধিকার, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। তাই যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তই হতে পারে সত্য উদঘাটনের সবচেয়ে কার্যকর পথ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
কসবা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মনে করেন, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে ভূমি দখল, হয়রানি ও সামাজিক অস্থিরতা অনেকাংশে কমে আসবে। তারা রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক প্রভাব বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (বিএইচআরসি) কসবা উপজেলা শাখার নেতারা বলেছেন, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা ভবিষ্যতেও মানবাধিকার বিষয়ক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কসবায় ভূমি দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে।
নিজস্ব প্রতিবেদক

