পাখির মতো উড়তে চায় পিপীলিকা, ক্ষমতার ছায়ায় বাঁচতে চায় মাদক ব্যবসায়ীরা

ছবি-সংগৃহীত
খ. ম. হারুনুর রশীদ ঢালী:
প্রিয় পাঠক, আজকের প্রতিবেদন শুরু করছি একটি বহুল প্রচলিত বাংলা প্রবাদ দিয়ে—”পাখিরা আকাশে উড়ে, হিংসায় পিপীলিকা বিধাতার কাছে পাখা চায়।” প্রকৃতির নিয়মের বাইরে গিয়ে অযাচিত শক্তি অর্জনের এই আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় ধ্বংস ডেকে আনে। সমাজের বাস্তবতাও যেন আজ সেই প্রবাদেরই প্রতিচ্ছবি।
মাদক ব্যবসা আজ শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সামাজিক, পারিবারিক এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মাদক ব্যবসায়ীরা কীভাবে এতটা সাহসী হয়ে ওঠে? কেন তারা বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসে? সাধারণ মানুষের আলোচনায় একটি বিষয় প্রায়ই উঠে আসে—মাদক ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় খোঁজে, ক্ষমতার ছায়ায় নিজেদের নিরাপদ মনে করে।
একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গঠনের প্রধান শর্ত হলো মাদকমুক্ত পরিবেশ। মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎকেও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রথম শপথ হতে হবে—নিজেকে মাদকমুক্ত রাখা।
বাংলা প্রবাদে বলা হয়, “পাখিরা আকাশে উড়ে, হিংসায় পিপীলিকা বিধাতার কাছে পাখা চায়।” প্রকৃতির নিয়ম অমান্য করার সেই আকাঙ্ক্ষার মতোই কিছু মাদক ব্যবসায়ী সমাজে প্রভাব বিস্তারের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় খোঁজে। তারা মনে করে ক্ষমতার ছত্রছায়া পেলে অপরাধ ঢেকে রাখা যাবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অন্যায়ের ভিত্তি কখনো স্থায়ী হয় না।
মাদক ব্যবসায়ীরা প্রায়ই দাবি করে তারা এ পথ ছেড়ে দিতে চায়, কিন্তু বাস্তবে লোভ, অবৈধ অর্থের মোহ এবং সামাজিক প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা তাদের সেই পথ থেকে ফিরতে দেয় না। ফলে তাদের “সাধও মেটে না, আশাও ফুরায় না”; একদিকে সমাজের কাছে ভালো মানুষ সাজার চেষ্টা, অন্যদিকে গোপনে মাদকের কারবার চালিয়ে যাওয়া—এ দ্বিমুখী চরিত্র সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি।
মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং সচেতন নাগরিকদেরও সমান ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়া। কারণ অপরাধীকে রক্ষা করা মানে অপরাধকে উৎসাহিত করা।
আমাদের মনে রাখতে হবে, মাদকবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা। একজন ব্যক্তি যখন নিজে মাদক থেকে দূরে থাকবে, পরিবারকে সচেতন করবে এবং সমাজে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তখনই প্রকৃত পরিবর্তন আসবে।
আসুন, আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি—নিজে মাদকমুক্ত থাকব, পরিবারকে মাদকমুক্ত রাখব এবং সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে আইনসম্মত ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব। তাহলেই গড়ে উঠবে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
লেখক: সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব,সম্পাদক প্রকাশক অপরাধ পত্র ও পরিচালক কসবা টিভি,মোহনা টেলিভিশন ও দৈনিক ভোরের কাগজ কসবা প্রতিনিধি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

