কসবা সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত দু’জনের লাশ শনিবার সন্ধ্যায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি
কসবা টিভি ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত দু’জনের লাশ শনিবার সন্ধ্যায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি। দু’দেশের শূণ্য রেখায় বিজিবি ও বিএসএফ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ছবি- শনিবার সন্ধ্যায় কসবা সীমান্তে নিহত দু’জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়।
ওই দুই বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি। বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল শরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।


ছবি- শনিবার সন্ধ্যায় কসবা সীমান্তে নিহত দু’জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলাধীন আনুমানিক ১৫ জন বাংলাদেশী চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারির সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে আনুমানিক ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ভারত হতে চোরাচালানী মালামাল নিয়ে আসার সময় প্রতিপক্ষ ৪৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল তাদের চোরাচালানে বাঁধা প্রদান করলে বাংলাদেশী চোরাকারবারী বিএসএফ সদস্যর উপর চড়াও হয় এবং বিএসএফ সদস্যর সাথে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্য চোরাকারবারীর উপর দুই ০২ রাউন্ড ছররা গুলি ছুড়ে। এ সময় বাংলাদেশী চোরাকারবারী মো. মোরছালিন (২০) নিহত হন, যার বাড়ি ধজনগর। এছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজন মারা যান। অপর একজনসহ উভয়ে আহত অবস্থায় ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন বলে বিএসএফ নিশ্চিত করে।
এদিকে অধিনায়ক ৬০ বিজিবি ইতিমধ্যেই বিএসএফ কমান্ডেন্ট এর সঙ্গে যোগাযোগ করে দুই ব্যক্তির লাশ বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যাপারে কাজ করছেন। বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিং প্রক্রিয়াধীন ।
উল্লেখ্য, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী দুই জন ইতোপূর্বে চোরাচালানী মালামাল পরিবহনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দু’জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ গুলির ঘটনা ঘটে।
নিহত মোরছালিন গোপীনাথপুর ইউনিয়নেন ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে। তিনি গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আরেক নিহত ৪০ বছর বয়সি নবীর হোসেনের বাড়ি মধুপুর গ্রামে। দু’জনের লাশ আগরতলার জিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।
একই ঘটনায় একাধিক বাংলাদেশি তরুণ আহত হন। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসার জন্য দেরকে কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন চোরাকারবারী রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় যায়। সময় বিএসএফ তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলে মুরছালিন নিহত হয়। পরে তার লাশ ভারতে নিয়ে যায়। এ সময় আহত নবীর হোসেনকেও নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর জানান, সীমান্তে গুলিতে দুজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছন। এর মধ্যে নবীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে লাশ নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান।
ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান বলেন, ‘আমি যতটকু জানি রাতে ২০-২৫ জনের একটি দল কাটাতারের সামনে গেলে তাদের বিএসএফ গুলি করলে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়। মোরছালিন এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল বলে তার বড় ভাই আমাকে জানিয়েছে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক

