সীমান্তের গুলিতে ঝরে গেল স্বপ্ন: কসবার কলেজছাত্র মোরছালিন ও নবীর হোসেনের নীরব দাফন

আকলিমা রশীদ ঢালী,কসবা টিভি ডেস্ক:
বয়সটা ছিল স্বপ্ন গড়ার। বই-খাতা হাতে কলেজে যাওয়ার কথা ছিল যার, সেই মোরছালিন এখন শুয়ে আছেন গ্রামের নিভৃত কবরস্থানে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কলেজছাত্র মোরছালিনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
শনিবার সন্ধ্যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ নিহত মোরছালিনের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে রাতেই পরিবারের কান্না আর স্বজনদের আহাজারির মধ্য দিয়ে মোরছালিন ও নবীন হোসেনকে তাদের নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মোরছালিন গোপীনাথপুর আলহাজ্ব শাহ আলম কলেজের ছাত্র ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, লেখাপড়া শেষ করে একদিন সংসারের হাল ধরবেন তিনি। কিন্তু সীমান্তের গুলিতে থেমে গেল সেই স্বপ্নের পথচলা।
দাফনের সময় গ্রামের মানুষ ভিড় করেন কবরস্থানে। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ক্ষোভ আর আতঙ্ক। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ধজনগর সীমান্তে প্রায়ই চোরাচালান ও অবৈধ যাতায়াতের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়লেও অনেক তরুণ নানা কারণে জড়িয়ে পড়ছে সীমান্তকেন্দ্রিক ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে।
স্বজনদের দাবি, মোরছালিনের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই এক গভীর বেদনার নাম। তার মা-বাবার কান্নায় বারবার ভারী হয়ে উঠছে বাড়ির পরিবেশ। গ্রামের প্রবীণরা বলছেন, সীমান্তে এমন মৃত্যুর ঘটনা বন্ধে প্রয়োজন কঠোর নজরদারির পাশাপাশি যুবকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
স্থানীয় সচেতন মহল আরও বলছে, আর যেন কোনো যুবক চোরাচালান সিন্ডিকেটের ইশারায় টাকার লোভে পড়ে জীবন না হারায়। আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়। দিনমজুর নবীর হোসেনের মতো আর কোনো স্ত্রী যেন স্বামীহারা না হন, কোনো সন্তান যেন পিতৃহারা হয়ে অসহায় জীবন না কাটায়। মোরছালিন ও নবীর হোসেনের মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সীমান্তবাসীকে শিক্ষা নিতে হবে— সাময়িক লাভের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে না গিয়ে নিরাপদ ও সৎ জীবনের পথ বেছে নেওয়াই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে জরুরি।
নিভৃত সেই কবরের মাটিতে এখন ঘুমিয়ে আছে এক তরুণের অপূর্ণ স্বপ্ন। আরএকজন দীনমুজুর । তাদের শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে গোপীনাথপুরের জনপদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক

