কসবায় রহস্যজনক মৃত্যু: সিএনজি চালকের লাশ উদ্ধার, আতঙ্কে এলাকাবাসী-আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন?

খ. ম. হারুনুর রশীদ ঢালীর ফলো আপ নিউজ।
ঈদের আনন্দ যেখানে পরিবার-পরিজনের হাসিতে মুখর থাকার কথা, সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার আড়াইবাড়ি কদমতুলি এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর অথাঃ ঈদুল আযহার নামাজের পরই টি আলী বাড়ির পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক সিএনজি চালকের মরদেহ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য, উদ্বেগ এবং নানা প্রশ্ন।

নিহত ব্যক্তি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার চান্দলা গ্রামের বাসিন্দা হোসেন মিয়া বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, কয়েকদিন আগে সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বাহির হন বলে জানা যায়।এর পর তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

এদিকে ঘটনার আরও রহস্যজনক দিক হলো— গত ২৫ মে ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মাথায় আঘাতজনিত অবস্থায় হোসেন মিয়াকে কসবা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে কীভাবে তিনি আহত হলেন, কারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল, আর হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর কী ঘটেছিল— এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিনের পরন্ত বিকেলে টি আলী বাড়ির পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে লেঅকজন পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

অন্যদিকে নিহতের সিএনজি গাড়িটি ছিনতাই হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড— তা নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনা হতে পারে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল ও পেশাজীবী চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।আবার একই স্থানে কদমতুলি এক বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল বাসার মালিককে সর্ব শান্ত করে দিয়েছেন। যা বিভিন্ন সংবাদ পত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন— কসবায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, নাকি দিন দিন অবনতি ঘটছে? সম্প্রতি এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

তবে পুলিশ জানিয়েছে,ভাসমান লাশের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পাশাপাশি সিএনজি ছিনতাইয়ের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এখন পুরো কসবাবাসীর চোখ তদন্তের দিকে। রহস্যের জট খুলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে কিনা— সেটাই দেখার অপেক্ষা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

