থটস অব বিল্লাল—একজন মানবতার মহা নায়ক

ছবি-সংগৃহীত
——————–খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী——————
বিল্লালকে নিয়ে অনেক আগেই লেখার ইচ্ছে ছিল। সমাজের জন্য তাঁর নীরব কাজ, মানুষের প্রতি অসীম মমত্ববোধ আর মানবিকতার যে আলো তিনি ছড়িয়ে যাচ্ছেন—সবকিছুই কলমবন্দি করে রাখার মতো। কিন্তু ব্যস্ততার ঘূর্ণাবর্তে সেই চেষ্টা আর হয়ে ওঠেনি। অবশেষে আজ সময়ের ফাঁকে জোড়া দুই কলম লিখতে বসলাম। তাঁর মানবসেবার গল্প, সংগ্রাম আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অদম্য মনোবলই এই লেখার মূল অনুপ্রেরণা।

এক কোণে, নীরবে-নিভৃতে মানুষকে ভালোবেসে যে তরুণ নিজেকে বিলিয়ে দেন প্রতিদিন—তাকে অনেকেই চেনেন “থটস অব বিল্লাল” নামে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মানবিক চিন্তা যেমন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত, বাস্তব জীবনেও মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া তার কাছে যেন অভ্যাস। কোনো প্রচারণা নয়, কোনো আলোড়ন নয়—মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যেন তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।

মানুষের জন্য মানুষের গল্প-কেউ চিকিৎসার টাকা না পেয়ে অসহায় হয়ে পড়লে সবার আগে এগিয়ে আসেন বিল্লাল। কারও ঘরে খাবার নেই—নীরবে পৌঁছে দেন চাল-ডাল। আবার কোনো বৃদ্ধা রাস্তার পাশে অসহায় বসে থাকলে নিজের হাতে তুলে দেন ওষুধ। তিনি বিশ্বাস করেন, “মানুষ বাঁচলে সমাজ বাঁচবে, আর সমাজ বাঁচলে দেশ বাঁচবে।”

তার এই বিশ্বাসই তাকে প্রতিদিন আরও নতুন করে জাগিয়ে তোলে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মানবতার প্ল্যাটফর্ম বেশিরভাগ সময় তিনি নিজের ব্যক্তি পরিচয়ের বদলে মানুষের কষ্টকে বেশি সামনে আনেন। তার ফেসবুক পেজে দেখা যায় অসহায় মানুষের হাসি—যেটা সৃষ্টি হয় তার ছোট্ট কোনো সহায়তার মাধ্যমে। অনেকেই বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিল্লাল যেন মানবতার এক নীরব দূত।
![]()
সমাজের তরুণদের অনুপ্রেরণা-স্থানীয় তরুণেরা এখন তাকে অনুসরণ করেন। অনেকে বলেন—“বিল্লালের মতো একজন থাকলে পুরো এলাকাই বদলে যায়।”আরেকজন বলেন—“সে শুধু সাহায্য করে না, আমাদের শেখায় কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়।”

এই পরিবর্তনই তাকে আরও বড় করে তোলে—শুধু একজন মানুষ হিসেবে নয়, বরং সমাজের একটি প্রবাহ হিসেবে।কোনো স্বীকৃতি নয়—মানুষের হাসিই তার পুরস্কার অনেকেই চান তিনি যেন সামনে আসেন, নেতৃত্ব দেন, সমাজের জন্য আরও বড় পরিসরে কাজ করেন। কিন্তু বিল্লাল সবসময় বলেন—
“মানুষের হাসিই আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

নিজেকে তিনি কখনো নায়ক মনে করেন না। কিন্তু মানুষের চোখে তিনি আজ মানবতার মহা নায়ক—একজন যোদ্ধা, যিনি অন্ধকার সময়ে আলো দেখান, বিপদে হাত বাড়িয়ে দেন, এবং ক্লান্ত মানুষের মুখে আবারো জীবনের আশা জাগিয়ে দেন।
লেখক: সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্নাব,সম্পাদক ,কসবা টিভি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

