সাংবাদিকরা জনগণের কণ্ঠ, প্রশাসনের নয়

কলম, ক্যামেরা আর সত্যের অনুসন্ধান—এই তিন অস্ত্র নিয়েই একজন সাংবাদিক সমাজে ন্যায়ের বার্তা পৌঁছে দেন। কিন্তু বর্তমান সময়ের জটিল বাস্তবতায় অনেক সময় সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য, সীমা ও দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে। কে সাংবাদিক? কার জন্য কাজ করেন তিনি—প্রশাসনের জন্য, নাকি জনগণের জন্য? উত্তরটি স্পষ্ট—সাংবাদিকরা জনগণের কণ্ঠ, প্রশাসনের নয়।

গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো—সত্য প্রকাশ, অনিয়ম উদ্ঘাটন ও জনগণের সমস্যাগুলো তুলে ধরা। প্রশাসন ভুল করলে বা দায়িত্বে গাফিলতি করলে সাংবাদিকের কাজ সেটি তুলে ধরা, যাতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। সাংবাদিক প্রশাসনের প্রশংসা করবেন, যদি তারা জনগণের সেবায় কাজ করেন—কিন্তু অন্ধ আনুগত্য সাংবাদিকতার নয়, সেটি তোষামোদ।

একজন প্রকৃত সাংবাদিক কখনোই ভয় বা স্বার্থের কাছে নতি স্বীকার করেন না। কারণ সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা। জনগণের মুখপাত্র হিসেবে সাংবাদিকের কলম থেমে গেলে সমাজের বিবেক নীরব হয়ে যায়।

আজকের ডিজিটাল যুগে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ছে মুহূর্তেই। তবে একই সঙ্গে বেড়েছে বিভ্রান্তি ও তথ্য বিকৃতির ঝুঁকি। তাই সাংবাদিকদের আরও সতর্ক, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ থাকতে হবে। সত্য যাচাই করে জনগণের সামনে বাস্তবতা তুলে ধরতে হবে—যাতে মানুষের আস্থা থাকে সংবাদমাধ্যমের ওপর।

সাংবাদিকদের কাজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নয়, বরং জনগণের পক্ষে। যদি প্রশাসন জনগণের সেবক হয়, তাহলে সাংবাদিক ও প্রশাসন একে অপরের সহযোগী—কিন্তু যদি প্রশাসন অন্যায়ের পথ বেছে নেয়, তখন সাংবাদিকের কলমই হয় জনগণের ন্যায়ের হাতিয়ার।

“যার যার প্লাটফর্মে থাকুন, কিন্তু সকলকে ঐক্য ছাড়া বিকল্প নেই।”এই উক্তিটি শুধু একটি বার্তা নয়—এটি আজকের স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের বাস্তব চিত্রের প্রতিধ্বনি।

“সাংবাদিকরা প্রশাসনের মুখপত্র নন, তাঁরা জনগণের কণ্ঠস্বর। তাঁদের কলম থেমে গেলে ন্যায়বিচার নীরব হয়ে যায়।”

খ. ম. হারুনুর রশীদ ঢালী, সভাপতি, কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব, সম্পাদক কসবা টিভি ও অপরাধপত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক

