আগামী নির্বাচনকে স্মরণীয় করে রাখতে হবে: ইউএনওদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।ছবি: পিআইডি

প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়।”
গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই নির্বাচনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতে হবে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

সকল জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা এ সময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বলে সরকারপ্রধানের দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা ইউএনওদের উদ্দেশে বলেন, “ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি না পারি তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।”

আওয়ামী লীগের আমলে তিনটি নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “যে কোনো সুস্থ মানুষ বলবে–এটা নির্বাচন নয়, প্রতারণা হয়েছে।

“আগামী নির্বাচন অন্যান্য দায়িত্বের মত নয়; বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্বটি পালন করতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলেই সরকার তার দায়িত্বটি সফলভাবে পালন করতে সক্ষম হবে।”

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: পিআইডি

আগামী নির্বাচন ও গণভোট দুটিই ‘জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য।”

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে এই গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশটাকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ আমরা তৈরি করতে চাই, তার ভিতটা এর মাধ্যমে গড়তে পারি।”

সদ্য যোগদান করা ইউএনওদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আপনাদের প্রধান দায়িত্ব হল একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন আয়োজন করা।”

তিনি ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, এলাকাবাসী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।

গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, “ভোটারদের বোঝাতে হবে যে আপনারা মন ঠিক করে আসুন। ‘হ্যাঁ’তে দেবেন নাকি ‘না’তে ভোট দেবেন–মন ঠিক করে আসুন।”

প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়।”

তিনি কর্মকর্তাদের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সৃজনশীল হওয়ার পাশাপাশি অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইউনূস বলেন, নারীরা যেন ঠিকভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে, সে কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা ইউএনওদের উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কীভাবে, কোন কাজটি করবেন, তার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি এখন থেকেই নিন।”

প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ প্রতিনিধি কসবা টিভি নিউজ ডেস্ক:
নিজস্ব প্রতিবেদক

