কসবা প্রেসক্লাব: প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, স্মৃতির দায় এবং আজকের সাংবাদিকতার আত্মসমালোচনা

ছবিতে কসবায় সর্ব প্রথম প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক সাথে ছবি-১-২-২০২৬ইং
খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী:
আজ কসবা উপজেলায় সাংবাদিকতার যে বিস্তৃতি, যে পরিচিতি—তার পেছনে রয়েছে একসময়কার নিরব অথচ দৃঢ় এক উদ্যোগ। অনেকেই জানেন না, কসবায় সর্বপ্রথম প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার পেছনে ছিল সীমাহীন পরিশ্রম, ধৈর্য আর স্বপ্ন। সেই ইতিহাস আজ অনেকের কাছেই অজানা, এমনকি বিস্মৃত।

এক সময় কসবায় সাংবাদিকতার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছিল না। ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে কসবা প্রেসক্লাব গঠন করা হয়। নতুন বাজারে অবস্থিত দি কসবা কো-অপারেটিভ অফিসে বসেই শুরু হয় সেই যাত্রা। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এম এইচ শাহ আলম, আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি আমি—খ. ম. হারুনুর রশীদ ঢালী।

শুরুটা সহজ ছিল না। হাতে ছিল না কোনো শক্তিশালী অবকাঠামো, ছিল না কোনো প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকতা। ছিল কেবল সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা আর ঐক্যের স্বপ্ন। ধীরে ধীরে নতুন সাংবাদিকদের যুক্ত করে কমিটি সম্প্রসারণ করা হয়। কসবা প্রেসক্লাব হয়ে ওঠে সাংবাদিকদের একটি অভিন্ন ছাতার নাম।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যপট বদলেছে। আজ কসবায় সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়েছে, মিডিয়ার পরিসরও বড় হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য—খবরের চেয়ে অনেক সময় ব্যক্তিগত জাহির, দলাদলি আর একে অপরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারই বেশি চোখে পড়ে। সাংবাদিকতার মূল নীতি—সত্য, দায়িত্ববোধ ও জনস্বার্থ—অনেক ক্ষেত্রেই চাপা পড়ে যাচ্ছে।

আজ ১/২/২০২৬ইং পরন্ত দুপুরে এম এইচ শাহ আলম ভাই অসুস্থ। তাকে তার বাড়িতে আমি আবুল খায়ের স্বপন,লোকমান হোসেন পলা,রুবেল,সাখাওয়াত তাকে দেখতে গিয়ে হঠাৎ করেই ফিরে আসে পুরোনো সেই দিনগুলোর স্মৃতি। মনে পড়ে যায়, কীভাবে নিঃস্বার্থভাবে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল—কোনো প্রচারের জন্য নয়, বরং সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষার জন্য।

নতুন প্রজন্মের অনেক মিডিয়াকর্মী হয়তো জানেন না এই ইতিহাস। কিন্তু ইতিহাস জানাটা জরুরি, কারণ তা আমাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রেসক্লাব কেবল একটি নাম নয়, এটি একটি আদর্শ, একটি শৃঙ্খলা, একটি
সম্মিলিত দায়িত্ব।
আজ সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। সাংবাদিকতা যদি আত্মপ্রচারের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তবে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কসবা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস আমাদের শেখায়—ঐক্য, দায়িত্ববোধ আর নৈতিকতাই ছিল মূল শক্তি।

এই স্মৃতিচারণ শুধু অতীতের গল্প নয়, এটি আজকের সাংবাদিকদের জন্য একটি আয়না। সেই আয়নায় তাকিয়ে নিজেদের প্রশ্ন করা প্রয়োজন—আমরা কি সত্যিই সেই পথেই আছি, যেই পথ ধরে কসবার সাংবাদিকতা যাত্রা শুরু হয়েছিল? যারা ছিল আমাদের সাথে তাদের মাঝে অনেকেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে গেছেন। মহান আল্লাহপাক তাদের আত্নার শান্তি কামনা করেন এই দোয়া করছি। আর যারা বেঁচে আছেন আরা যেন গঠনমূল সমালোচনা করে জনগণের কল্যাণে কাজ করেন সেই কামনা করছি।
লেখক: সভাপতি কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব ( প্রতিষ্ঠিতা সাধারণ সম্পাদক কসবায় সর্ব প্রথম প্রতিষ্ঠিত প্রেসক্লাব)

নিজস্ব প্রতিবেদক

