ঈদের আনন্দে অসতর্কতা—ফেসবুক পোস্টেই চোরের খোঁজ পায় ফাঁকা বাসা

আকলিমা রশীদ ঢালী পিংকী:
ঈদ মানেই ঘরমুখো মানুষের ঢল, আনন্দমুখর ভ্রমণ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। বিশেষ করে শহরের বেসরকারি চাকরিজীবীদের অনেকেই বছরের এই সময়টিতে পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে যান। কিন্তু আনন্দের এই মুহূর্তেই অজান্তে বড় ঝুঁকি ডেকে আনছেন অনেকেই—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের পরিকল্পনা প্রকাশ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুকে “পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি” কিংবা “বাসা ফাঁকা রেখে ঈদ করতে যাচ্ছি” ধরনের পোস্ট অনেক সময় অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়। কারণ এসব তথ্য শুধু পরিচিতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; অ্যালগরিদমের কারণে অনেক অপরিচিত মানুষের কাছেও পৌঁছে যেতে পারে। যাদের মধ্যে কেউ অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সেই তথ্য ব্যবহার করতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ফাঁকা বাসাবাড়ি টার্গেট করে। তারা আগে থেকেই নজরদারি চালায় এবং বাসা ফাঁকা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া তথ্য তাদের জন্য এক ধরনের ‘সহজ সূত্র’ হিসেবে কাজ করে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। ঈদে বাসা ছাড়ার আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

যেমন—
** ফেসবুক বা অন্য সামাজিক মাধ্যমে ভ্রমণের তথ্য প্রকাশ না করা
** বিশ্বস্ত প্রতিবেশী বা নিরাপত্তাকর্মীকে বিষয়টি জানানো
** বাসার দরজা-জানালা সঠিকভাবে লক করা
** সম্ভব হলে সিসিটিভি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে বিবেচনা করা উচিত।

ঈদের আনন্দ যেন দুঃখের কারণ না হয়—সেজন্য প্রয়োজন একটু সচেতনতা। সামান্য অসতর্ক পোস্টই হতে পারে বড় ক্ষতির কারণ। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আনন্দ ভাগাভাগি করুন, নিরাপদ থাকুন নিজে এবং আপনার পরিবার।

নিজস্ব প্রতিবেদক

